বাংলাদেশ ব্যাংক
পশুর হাটে জাল নোট রোধে ১০ নির্দেশনা

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট প্রচলন চক্রের অপতৎপরতা রোধকল্পে শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (১০ মে) সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে এ নির্দেশনার চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।
১০ নির্দেশনা
১. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) অনুমোদিত পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দিয়ে হাট শুরুর দিন হতে ঈদের পূর্ব রাত পর্যন্ত বিরতিহীন পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিনামূল্যে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তফসিলি ব্যাংকগুলোর তালিকা এতদসঙ্গে সংযুক্ত করা হলো। এ হাটগুলো সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭ মে-এর মধ্যে [email protected] এবং [email protected] ই-মেইলে পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যাদি মনিটরিং করবেন।
২. ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন/পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটসমূহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসের নেতৃত্বে গৃহীত অনুরূপ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আপনাদের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়/প্রধান শাখাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
৩. বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই, এমন জেলাসমূহের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা/উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের এতদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেস্ট শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেস্ট শাখা কর্তৃক বণ্টন করা দায়িত্ব অনুযায়ী, আপনাদের ব্যাংকের জেলা/উপজেলা পর্যায়ের শাখাসমূহ যাতে পশুর হাটগুলোতে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
৪. হাটে স্থাপিত বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ গণনাকরণ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
৫. বুথ স্থাপন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ও সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও অনুমোদিত হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
৬. বুথে নোট যাচাইকালে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে এ বিভাগের (তদানীতন DCMPS) ০৪/০৭/২০০৭ তারিখের পরিপত্র নং- জাল নোট: ০১(পুলিশ)/২০০৭-১৯১ এ বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৭. বুথে ব্যাংকের নাম ও তার সঙ্গে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার/নোটিশ প্রদর্শন করতে হবে।
৮. ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্রটি আপনাদের ব্যাংকের শাখাসমূহে ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে।
৯. দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এতদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
১০. পবিত্র ঈদুল আজহা সমাপ্তির পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে উপরে বর্ণিত নির্দেশনার সূত্রে আপনাদের কর্তৃক পরিপালিত বিষয়াদির ওপর প্রস্তুত করা একটি প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে এ বিভাগে পাঠাতে হবে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







