• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সৌদির গোপন হামলা, ইরানে নতুন উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই এবার ইরানের ভেতরে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব—এমন দাবি করেছেন দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা। সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে চালানো এই হামলাগুলো এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সৌদি আরব আগের তুলনায় আরও দৃঢ় ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি বিমানবাহিনী এসব হামলা চালায়। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি ভূখণ্ডে হওয়া হামলার প্রতিক্রিয়াতেই পালটা পদক্ষেপ নেয় রিয়াদ।

তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। একইভাবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরব ১০ সপ্তাহের এই যুদ্ধ চলাকালে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা অনেকের মতে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে বিমান হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশেই ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। এসব হামলায় শুধু মার্কিন ঘাঁটি নয়, বিমানবন্দর, বেসামরিক অবকাঠামো ও তেল স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলো এবার পালটা প্রতিক্রিয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠছে।

তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের কৌশলে পার্থক্য রয়েছে। আবুধাবি তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও রিয়াদ উত্তেজনা প্রশমনের পথেই থেকেছে। সৌদি আরব রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, “সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা কমানো, সংযম বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পক্ষে।”

ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার বিষয়ে সৌদি আরব আগেই ইরানকে অবহিত করেছিল। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ে এবং সৌদি আরব আরও পালটা হামলার সতর্কবার্তা দেয়। পরে উত্তেজনা প্রশমনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সুন্নি শক্তি সৌদি আরব এবং শিয়া শক্তি ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়। এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতিও কার্যকর রয়েছে।

লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় যুদ্ধকালেও সৌদি আরব তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অন্য অনেক দেশের তুলনায় তাদের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে।

সৌদি মালিকানাধীন আরব নিউজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল লিখেছেন, “ইরান ও অন্যরা যখন সৌদি আরবকে ধ্বংসের আগুনে টেনে নিতে চেয়েছিল, তখন আমাদের নেতৃত্ব জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য ধৈর্য ধরার পথ বেছে নিয়েছে।”

১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছিলেন, “প্রয়োজন হলে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।”

এর তিন দিন পর ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও দূতাবাসের আরও চার কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সৌদি আরব।

পশ্চিমা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুমকির পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি সমঝোতা তৈরি হয়।

২৫ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু ১ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৫-এর কিছু বেশি।

পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধবিরতির আগে সৌদি আরবে হওয়া বেশিরভাগ হামলা সরাসরি ইরান থেকে নয়, বরং ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সরাসরি হামলা কমালেও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় ছিল।

১২ এপ্রিল ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে হামলার প্রতিবাদ জানায় সৌদি আরব।

এরপর ৭ ও ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকরের শুরুতেই আবারও সৌদি আরবে ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে রিয়াদ ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে নতুন পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করে। একই সময়ে পাকিস্তান সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।

সূত্র: রয়টার্স

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল
হরমুজ প্রণালি এখন যুদ্ধাঞ্চলে পরিণত হয়েছে: ইরান
হরমুজ প্রণালি এখন যুদ্ধাঞ্চলে পরিণত হয়েছে: ইরান
কিউবায় যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
কিউবায় যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র