আমিরাত উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, ইরানের দিকে নেওয়ার দাবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে একটি জাহাজ জব্দের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, অজ্ঞাত পরিচয়ের একদল ব্যক্তি জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ১৪ (মে) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, জাহাজটি আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল থেকে প্রায় ৩৮ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করা ছিল। এ সময় হঠাৎ করেই কিছু ব্যক্তি জাহাজটিতে উঠে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। পরে জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে ইরানের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়।

তবে এখন পর্যন্ত জাহাজটির নাম, মালিকানার তথ্য কিংবা কতজন নাবিক সেখানে ছিলেন-এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। কারা জাহাজটি দখলে নিয়েছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য দেয়নি ইউকেএমটিও। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর আশপাশের নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলেছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাটি। একই সঙ্গে সন্দেহজনক যেকোনো কার্যকলাপ দ্রুত জানাতে জাহাজগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে একই দিনে ওমান উপকূলের কাছেও আরেকটি বড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেটি ডুবে যায়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমানের উদ্ধারকারী দল। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কড়া অবস্থান নেয়। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এপি
ভিওডি বাংলা/জা







