• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নৃত্যশিল্পী হওয়ায় সুবর্ণার লাশ দাফনে আপত্তি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি    ১৫ মে ২০২৬, ০৮:৩২ পি.এম.
দৌলাতদিয়াড় এলাকায় উত্তেজনার পর রাতে সুবর্ণা আক্তারের দাফন সম্পন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় নৃত্যশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলে সুবর্ণা আক্তার (২৯) নামে এক নারীর দাফনে আপত্তি জানান স্থানীয়দের একাংশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় রাত ১০টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

সুবর্ণা আক্তারের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ায়। তবে তিনি স্বামী মো. পাভেল হোসেনের সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকালে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

বৃহস্পতিবার বিকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে দাফনকে কেন্দ্র করে জটিলতা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিলে এলাকাবাসীর একটি অংশ আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, সুবর্ণার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও চলাফেরা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রকাশিত কিছু ভিডিও ও নাচের পরিবেশনা এলাকার মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। এসব কারণ দেখিয়ে তারা কবরস্থানে দাফনের বিরোধিতা করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রথমে কবর খোঁড়ার কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মৃতের স্বজনদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

এদিকে কবরস্থান কমিটির পক্ষ থেকেও সদস্যপদ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। কমিটির সদস্যরা জানান, মৃতের পরিবার কবরস্থানের নিয়মিত সদস্য নয়। সদস্যপদের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলে।

সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাকে কেন্দ্র করে অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। পরিবারের দাবি, এর আগেও তাদের পরিবারের সদস্যদের একই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু এবার অকারণে বাধা দেওয়া হয়েছে।

সুবর্ণার সৎবাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, “আমরা খুব অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছিলাম। কবর খুঁড়তেও বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে বাধ্য হয়ে অন্যত্র দাফনের চিন্তা করছিলাম।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্যরা উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর মৃতের পরিবার কবরস্থান কমিটির সদস্য হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিলে বিরোধ কিছুটা কমে আসে।

পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে ধর্মীয় বিধান অনুসারে সুবর্ণা আক্তারের দাফন সম্পন্ন হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। পরে রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে পালালো ট্রাকচালক, নিহত ২
মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে পালালো ট্রাকচালক, নিহত ২
রাজারহাটে মাইলস ফিড নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাজারহাটে মাইলস ফিড নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাজবাড়ীতে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
রাজবাড়ীতে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার