বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস আজ

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস আজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘একসাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করি: নীরব ঘাতককে জয় করি’। ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগের সদস্য হিসেবে হাইপারটেনশন কমিটি অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ২০০৬ সাল থেকে ১৭ মে দিবসটি পালন করে আসছে।
এদিকে, বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট আজ রোবার (১৭ মে) সকাল ১০টায় ফাউন্ডেশনের হল রুমে (মিরপুর-২) একটি গণমুখী সেমিনারের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এবং এতে সভাপতিত্ব করবেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী।
ডব্লিউএইচও’র ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেছে, যার ৫২ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ। বিশ্বে প্রতি বছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যায়, যা সকল সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপার টেনশনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা, ফলোআপ, ওষুধ সেবন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই আর সীমাবদ্ধ নেই, বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণে পরিবর্তন এবং রক্তচাপ পরীক্ষার মাধ্যমে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনে ভুগছে।
‘বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭-১৮’ অনুযায়ী, ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ছিল ২৬ শতাংশ। পুরুষের মধ্যে ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৪ শতাংশে এবং নারীর ক্ষেত্রে এ হার ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত অর্ধেক নারী (৫১ শতাংশ) ও দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষই (৬৭ শতাংশ) জানেন না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চ রক্তচাপ।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে প্রতি পাঁচ জনের একজন তরুণ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। চিপস, আচার, বার্গার, পিৎজা, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি-লবণযুক্ত খাবার তরুণদের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







