ডেপুটি স্পিকার
হাওরের সমস্যা চিহিৃত করতে স্পেশাল ট্রাস্কর্ফোস গঠনের আহ্বান

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চল ঘিরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, ‘হাওরের মানুষ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও যুগের পর যুগ অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। কিন্তু যারা হাওরাঞ্চল নিয়ে কাজ করছেন তারা কতটুকু করবেন তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। কেননা হাওরাঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পদক্ষেপ নেয়া হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অনেক সময় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সাংসদদের সঙ্গেও আলোচনা করার প্রয়োজন অনুভব করেন না সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবীকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নাই বিবেচনায় নিয়ে একটি ‘স্পেশাল ট্রাস্কফোর্স গঠন করার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘‘হাওরের দুর্যোগ: ‘চাষাভুষার সন্তান’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা ও করণীয়’’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নেত্রকোণা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা।
কায়সার কামাল বলেন, ‘আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হাওরের মাঝখানে। ছোটবেলা থেকেই আমি হাওরের মানুষের কষ্ট, সংগ্রাম ও বঞ্চনার চিত্র কাছ থেকে দেখে আসছি। আমাদের কৃষকরা প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যখন ক্ষতি হয় তখনেই শুধু হাওর নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ যা থাকে অনুপস্থিত।’
নিজেকে কৃষকের সন্তান দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘চাষাভুষার সন্তান গ্রন্থে হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং দুর্যোগের বহুমাত্রিক প্রভাব অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উঠে এসেছে। এই ধরণের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
হাওরাঞ্চলে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কায়সার কামাল বলেন, লিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি হাওরের সম্পদ দখল করছে। এতে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিলের মধ্যে বড় গর্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হাওরের কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। আবার লিজ ব্যবস্থার কারণে মাছ ধরার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। আমি নিজেও এসব বৈষম্যের সাক্ষী।
তিনি বলেন, ‘এখন আবার নতুন আরেকটা কথা চালু হয়েছে। যেমন কিছু কিছু এলাকায় আছে ৪৩ কেজিতে মণ। এটা অনেকে হয়ত বোঝেন না। কৃষকের ধান ৪৩ কেজি নিচ্ছে। মজুদদার কিন্তু ওটাকে ৪০ কেজিতে এক মণ হয় ৪০ কেজি দাম দিচ্ছে। এই যে কৃষকদের উপরে একটা সিস্টেমেটিক্যালি অত্যাচার করা হচ্ছে, নিপীড়ন করা হচ্ছে সেই জিনিসগুলা জাতীয়ভাবে অ্যাড্রেস হচ্ছে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন; সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যদি আমরা কাজ করি তাহলে আমাদের নিজেদের জন্য যতটুক না পারি আমাদের সন্তানদের জন্য আগামী একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’
নেত্রকোণা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার সভাপতি রফিক মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, আলোচক হিসেবে অংশ নেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, সাংবাদিক ফারুক আহমেদ তালুকদার, মাসুদ করিম, রাজন ভট্টাচার্য, বাহরাম খান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কায়েস আজাদ আশরাফী প্রমুখ। সেমিনারে কী-নোট উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ মোফাজ্জল।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এফএ







