• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘দেশনেত্রী স্মৃতি বর্ষপঞ্জি’র মোড়ক উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২২ মে ২০২৬, ১০:০৪ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘দেশনেত্রী স্মৃতি বর্ষপঞ্জি’র মোড়ক উন্মোচন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। 

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে জাতীয় সংসদের এলডি হলে তিনি বর্ষপঞ্জিটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
বর্ষপঞ্জিটিতে ‘ছবির গল্প’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের ধারণকৃত আলোকচিত্র এবং ‘ছবির গল্প’ টিমের লেখনীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনের সংক্ষিপ্ত ১২টি বিশেষ দিক ও স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

বিকেল সাড়ে চারটায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত ও বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘ছবির গল্প’-এর উপদেষ্টা সম্পাদক আতিকুর রহমান রুমন।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, পাবনা-৫ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আরিফা সুলতানা রুমা, সানজিদা তুলি ও মাহমুদা হাবিবা, পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাকে ডেকেছিলেন রাজনীতিতে এসে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বলেছিলাম, ‘স্যার, আমার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমি এখনও ফুটবল খেলি, এসবের মধ্যে নেই।’ রাজনীতি থেকে আমি অনেক দূরে ছিলাম। আমি রাজনীতিতে এসেছি বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে। তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ থাকার কারণেই এই দল করতাম।

১৯৯১ সালে আমি, নুরুল ইসলাম মনি এবং আরও একজন—মোট তিনজন স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। প্রায় এক বছর পর আমরা তিনজনই বেগম জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করি।”

তিনি আরও বলেন, “বেগম জিয়া কীভাবে ধীরে ধীরে একজন গৃহবধূ থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিণত হলেন, সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি খুব অল্প কথা বলতেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকেও কখনও কদর্যভাবে আক্রমণ করেননি। তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা আমরা সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছি তাঁর মৃত্যুর পর। রাজনৈতিক নেতাদের সাধারণ মানুষ দূর থেকে দেখে—টেলিভিশনে দেখে কিংবা জনসভায় আলোকোজ্জ্বল পরিবেশে তাঁদের বক্তব্য শোনে। কিন্তু মৃত্যুর পর মানুষের যে অবিরাম অশ্রুধারা আমরা দেখেছি, সেটিই প্রমাণ করে তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের নেত্রী।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাড়ে তিন বছর দেশ শাসন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়াকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তাঁকে উত্তাল রাজনৈতিক সমুদ্র পাড়ি দিতে হয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। এক কথায় বলতে চাই, তিনি বিএনপিকে ধরে রেখেছেন।”

খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী এবং পাবনা-৫ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে হৃদয়ে, জীবনে এবং মরণে ধারণ করেছিলেন। যদি তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতেন, তাহলে এই দেশের ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা হতো। সার্বভৌম এই দেশ রক্ষার জন্য তিনি জীবনভর লড়াই করেছেন এবং তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশকে মহিমান্বিত করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে নিরাপদ করেছে এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে একটি স্থায়ী ভিত্তি দিয়েছে।

আমি সৌভাগ্যবান যে দীর্ঘ ২১ বছর তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করতে পেরেছি। তাঁকে আরও মহিমান্বিত করে তুলতে আরও প্রকাশনা ও প্রচারণা প্রয়োজন, যা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

ভিওডি বাংলা/সবুজ/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
১৩ সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
ঈদযাত্রা: ট্রেনের ছাদে উঠতে পারবেন না যাত্রীরা
ঈদযাত্রা: ট্রেনের ছাদে উঠতে পারবেন না যাত্রীরা
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ৪০ হাজার পচনশীল ব্যাগ দিচ্ছে ডিএসসিসি
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ৪০ হাজার পচনশীল ব্যাগ দিচ্ছে ডিএসসিসি