• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ

মৃত্যুর গুজবে সড়কে মানুষ, আসামির দোষ স্বীকার

   ২২ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশকে ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা ও সংঘর্ষের পর সেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। পরে বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল চারটার দিকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করে আনার সময় পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিতে চায় তাঁরা। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে কৌশলে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আসামি মনিরকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশের গাড়ি থেকে ব্যাটারি চুরি ও হামলার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার চার বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে বিকেল চারটার দিকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। এক পর্যায়ে শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা পিছু হটে অবস্থান নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত আটটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

রাত সোয়া ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে একটি ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপরও উত্তেজিত লোকজন সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন। মধ্যরাতের পরও পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গতকাল এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ধর্ষণের শিকার শিশুটি মারা গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নারী ও পুরুষ জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর শুনেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।

শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সে আশঙ্কামুক্ত।

মামলার বাদী শিশুটির বাবা বলেন, ‘বিচার দীর্ঘসূত্রতায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমি চাই, আমার মেয়ের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে আসামিকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে বিজিবির গুলি, নিরাপত্তা জোরদার
সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে বিজিবির গুলি, নিরাপত্তা জোরদার
র‌্যাব সদস্যকে হত্যার পর এবার ডিবি পুলিশকে কুপিয়ে জখম
র‌্যাব সদস্যকে হত্যার পর এবার ডিবি পুলিশকে কুপিয়ে জখম