• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বিশেষ সাক্ষাৎকারে ছাত্রদল নেতা শামীম

গুপ্ত শিবির এখন ক্যাম্পাস রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

খতিব আসলাম    ২৩ মে ২০২৬, ০১:২৮ এ.এম.
শামীম আক্তার শুভ। ছবি: ভিওডি বাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি মানেই আন্দোলন, সংগ্রাম, মতাদর্শের লড়াই আর ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের বর্তমান প্রজন্মের এক সক্রিয় মুখ কুড়িগ্রামের ছেলে শামীম আক্তার শুভ। 

বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে শুনেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের গল্প, শুনেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা। সেই আদর্শ থেকেই একসময় যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্ররাজনীতির পথচলা, বর্তমান ক্যাম্পাস পরিস্থিতি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার, অতীতের নির্যাতনের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন ভিওডি বাংলার সাথে। স্পষ্টভাবেই জবাব দেন সকল প্রশ্নের।

ভিওডি বাংলা: বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাস রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? 

শামীম আক্তার শুভ:  এখন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে “গুপ্ত শিবির” সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এখন প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে গুপ্ত শিবির। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন সমস্যা তৈরির পাঁয়তারা করছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে, পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিভ্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংগঠিত সাইবার বুলিং পরিচালনা করা হচ্ছে।

তার ভাষায়, তারা প্রশিক্ষিত সাইবার বুলিং করছে। যখনই কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তখনই তাকে সাইবার আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।

শুভ দাবি করেন, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন এসব কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভিওডি বাংলা: ছাত্ররাজনীতিতে আপনার যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এ যুক্ত হওয়ার পেছনের অনুপ্রেরণা কী ছিল?

শামীম আকতার শুভ: আমার রাজনৈতিক চেতনার শুরু পরিবার থেকেই। কুড়িগ্রামের রৌমারী অঞ্চলে আমার জন্ম, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল।

তিনি বলেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম শুনতাম, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতাম। সেখান থেকেই জিয়ার আদর্শের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেই ভালোবাসা থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই।

ভিওডি বাংলা: শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ আগের তুলনায় কমেছে—এমন আলোচনা আছে। আপনি কি একমত?

শামীম আকতার শুভ: অতীতে ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের রাজনীতি করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। ফ্যাসিবাদের সময় ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের দমন করা হতো। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন পরিবেশ অনেক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শিক্ষার্থীবান্ধব।

ভিওডি বাংলা: হলের আবাসন সংকট, সিট বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

শামীম আকতার শুভ: ছাত্রদল শুরু থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করছে। আবাসন, শিক্ষা, লাইব্রেরি, গবেষণা—সব ক্ষেত্রেই ছাত্রদল কাজ করছে। কোথাও সমস্যা হলে ছাত্রদলের নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়েই আমরা কাজ করি।

ভিওডি বাংলা: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান-এর দিকনির্দেশনা ছাত্ররাজনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলছে?

শামীম আকতার শুভ:  বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ছাত্রদলের কার্যক্রমে পরামর্শ দেন, তবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া বুঝে আমরা কাজ করি।

ভিওডি বাংলা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?

শামীম আকতার শুভ:  আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ পর্যায়ে দেখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০-এর মধ্যে আসুক। এজন্য উন্নত ল্যাব, হল, শিক্ষা কাঠামো ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন।

ভিওডি বাংলা: আপনার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা কোনটি?

নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভ।

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে তাকে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।

শুভ জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হল গেট থেকে আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে আমার রুম থেকে ল্যাপটপ ও ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে গেস্টরুমে নিয়ে লাইট বন্ধ করে রড, স্ট্যাম্প ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়।

ভিওডি বাংলা: সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্রদল বর্তমানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে?

শামীম আকতার শুভ: ছাত্রদল সবসময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, ৯০-এর গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর যেকোনো আঘাত এলে ছাত্রদল আবারও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

ভিওডি বাংলা: আগামী দিনে নিজেকে কোথায় দেখতে চান—শুধু ছাত্ররাজনীতিতে, নাকি জাতীয় রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখতে চান?

শামীম আকতার শুভ:  আমার লক্ষ্য কেবল সংগঠনের পদ পাওয়া নয়; বরং দেশের মানুষের জন্য কাজ করা।

তিনি বলেন, আমারও স্বপ্ন আছে। ছাত্রদলের শীর্ষ পদে কাজ করার ইচ্ছা আছে। ভবিষ্যতে দেশের জন্য, জনগণের জন্য এবং আমার এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে অস্ত্রধারী ছিল: নাছির
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে অস্ত্রধারী ছিল: নাছির
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ