আদ-দ্বীনের সিসিটিভি জব্দ ও বিল্ডিং কোড খতিয়ে দেখার দাবি

ঈদুল আজহার আগের দিন রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি জব্দ করার পাশাপাশি বিল্ডিং কোড খতিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে।
হাসপাতালের এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর নন্দীপাড়ায় ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো যমজ শিশুর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়ে এ দাবি জানান ডা. রফিকুল ইসলাম।
নবজাতক সন্তান হারানো পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপকালে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যে রাতে ঘরে ঘরে সেমাই কিংবা পোলাওয়ের সুগন্ধ থাকার কথা, সেদিন হাসপাতালের বাতাসে ছিল শুধুই কান্নার রোল। এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের কারও জন্যই কাঙ্ক্ষিত নয়।
ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভিওডি বাংলাকে তিনি বলেন, আমি নিজে আজ দুপুরে আদ-দ্বীন হাসপাতালে গিয়েছিলাম। পরিচালকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেও ব্রিফ করেছি। আমি স্পষ্ট বলেছি একটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবটুকুই করতে হবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটিতে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া মৃতের সংখ্যার অমিল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে এই চিকিৎসক নেতা বলেন, মৃতের সংখ্যা আসলে কত ছয় নাকি তার চেয়ে বেশি, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে। তবে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি যেন ওখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফুটেজ দ্রুত জব্দ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং রোগীদের মূল রেজিস্ট্রি খাতা মেলালেই পরিষ্কার হয়ে যাবে ওই ওয়ার্ড থেকে ঠিক কতটি শিশুকে বের করা হয়েছিল। তখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকবে না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাজমা বেগম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতির কথা উল্লেখ করে ডা. রফিক বলেন, নাজমা বেগমের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ওয়ার্ডে ১১ থেকে ১৩ জন শিশু ভর্তি ছিল এবং তার চোখের সামনেই ৫-৬ জন শিশু মারা যায়। এ সংখ্যার কিছুটা কম-বেশিও হতে পারে। তবে ঘটনা যে অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল তা স্পষ্ট। ভুক্তভোগী এক বাবার বিবরণ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, মায়ের কোলেই একটি শিশুর শরীর নীল হয়ে যায়। অর্থাৎ তার ‘সায়ানোসিস’ (Cyanosis) ডেভেলপ করেছিল। এটি কোনো বিষাক্ত গ্যাস লিক বা বিস্ফোরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
হাসপাতালের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, তদন্ত সংস্থাকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে যে এই হাসপাতালের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা অবকাঠামো সঠিক বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি করা হয়েছিল কিনা। কী কারণে গ্যাস লিক হলো বা এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কিনা, তা সিলগালাকারী কর্তৃপক্ষ এবং তদন্ত কমিটির বের করা উচিত।
একটি শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে ডা. রফিক বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া মৃতের সংখ্যার সাথে ভুক্তভোগীদের দেওয়া সংখ্যার দ্বিমত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সঠিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
সবশেষে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নাজমা বেগম কিংবা নন্দীপাড়ার এই দম্পতির মতো যারা আছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, আমরা সকলে মিলে এই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে এসে দাঁড়াই।
ভিওডি বাংলা/সম্রাট/আরকেএইচ/এমএস






