• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী মব তৈরি করে ‘চোরাই পণ্যের গাড়ি’ ছিনতাই, পিছু হটল বিজিবি ভুল ট্রেনে উঠে পরিবার থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশুকে ফিরিয়ে দিল আনসার ‘জেড’ থেকে ‘ওয়াই’, সৌরভের নিরাপত্তা কমাল প্রশাসন ঢাকা উত্তর ও দক্ষীণ সিটিতে দুই শিফটে চলবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সারিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অনুমোদনহীন ট্রাভেলসকে জরিমানা জলাবদ্ধতা ও সড়ক সংস্কারে ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় ডিএসসিসি মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আলোচিত বৃদ্ধার মৃত্যু, যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেন হান্নান মাসউদ: রাশেদ খান

মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নোয়াখালী প্রতিনিধি    ৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যদি কোথাও কোনো ধরনের অপমান, হেয়প্রতিপন্ন বা অসম্মান করা হয়, তাহলে সরকার বসে থাকবে না। এ ধরনের ঘটনার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) নোয়াখালী চাটখিল উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গর্বের বিষয় মনে করেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্প ‘বীর নিবাস’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রকল্প অনুমোদিত হলেও বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে অনেক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় তালিকাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটি শুনলে তাঁর কষ্ট হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি সবসময় মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেছে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা, বাসস্থান, মাসিক সম্মানীসহ বিভিন্ন সুবিধার উদ্যোগ তখনই নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হলেও পরে শ্রমিক, কৃষক, শিশু থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এতে যুক্ত হন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনে আওয়ামী লীগের হাতে অনেকে নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ২০২৪ সালের আন্দোলনের পুরো কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি একটি টকশোর প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের পরিচয় ও অস্তিত্বের ভিত্তি। স্বাধীনতার প্রশ্নে কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ২৬ মার্চের স্বাধীনতা কিংবা ১৬ ডিসেম্বরের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক।

ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সাল না হলে ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান কিংবা ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে অনেক নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক দলের কৃতিত্ব নয়, বরং এটি ছিল জনমানুষের আন্দোলন।

তিনি বলেন, একটি দল ১৭ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে দেশ পরিচালনা করেছে, আর এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের আন্দোলনকে নিজেদের সম্পত্তি বানানোর চেষ্টা করছে। এটি জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো গণহত্যার অভিযোগ নেই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের পর জাতিকে আর বিভক্ত করা উচিত নয়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় জাতীয় ঐক্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সরকারকে চাপে রাখা প্রয়োজন, যাতে তারা জনগণের পক্ষে কাজ করে। তবে নির্বাচিত সরকার হিসেবে বিএনপি সরকারকে ১৭ বছরের ‘জঞ্জাল’ পরিষ্কার করে রাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে কিছু সময় দিতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে কোনো ‘রাজাকার’ বা ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রদল ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে। দলের বদনাম হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না। যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।

এ সময়ের উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলরের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

ভিওডি বাংলা/এএইচ/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সারিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অনুমোদনহীন ট্রাভেলসকে জরিমানা
সারিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অনুমোদনহীন ট্রাভেলসকে জরিমানা
গোপালগঞ্জে বিএনপিতে যোগ দিলেন আ. লীগের ১২০০ নেতাকর্মী
গোপালগঞ্জে বিএনপিতে যোগ দিলেন আ. লীগের ১২০০ নেতাকর্মী
মন্ত্রী নয়, সহযোদ্ধা হিসেবেই থাকতে চাই: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মন্ত্রী নয়, সহযোদ্ধা হিসেবেই থাকতে চাই: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক