• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
খামেনির বিশেষ ক্ষমায় কারামুক্ত হচ্ছেন ২ হাজারের বেশি বন্দি ঝিনাইদহে বিএনপিতে যোগ দিলেন জামায়াতের ৩০০ নেতাকর্মী এনসিপির ছায়া বাজেটে ৭১ নীতিগত প্রস্তাব বান্ধবীসহ নিখোঁজ দুই বোন ঢাকা উদ্যান থেকে উদ্ধার সরকারি খাল দখল নিয়ে আ. লীগ-বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ৭ পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার কড়াকড়ি উপেক্ষা করে আল-আকসায় জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বড় দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে: নৌপ্রতিমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস র‍্যাঙ্কিং’ চালুর দাবি জাতীয় ছাত্রমঞ্চের খালেদা জিয়ার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শোকপ্রস্তাব

এআইয়ের নকশায় প্রথমবার তৈরি হলো ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ টিকা

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ‘মৌলিকভাবে নতুন’ এক টিকা তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা, যা ভবিষ্যতে বিস্তৃত পরিসরের ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। 

গবেষকদের দাবি, এটি শুধু বর্তমানের করোনাভাইরাস নয়, ভবিষ্যতে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল জানিয়েছে, কোনো টিকার মূল উপাদান বা অ্যান্টিজেন সম্পূর্ণভাবে এআই দিয়ে নকশা করার পর সেটি মানুষের ওপর পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করার ঘটনা এটিই প্রথম। গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এরই মধ্যে গবেষকেরা ফ্লু, এইচ৫ এন ১ বার্ড ফ্লু এবং ইবোলাসহ অন্যান্য প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।  গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ইনফেকশনে। 

সাধারণত টিকা তৈরি করা হয় ভাইরাসের বিদ্যমান কোনো ধরন বা স্ট্রেইনকে ভিত্তি করে। কিন্তু ভাইরাসের দ্রুত মিউটেশনের কারণে অনেক সময় টিকা অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে। এ কারণে কোভিড-১৯ এবং মৌসুমি ফ্লুর টিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিজ্ঞানীরা সব সময় ভাইরাসের পরিবর্তনের পেছনে ছুটছেন। কিন্তু তাদের লক্ষ্য হলো ভাইরাসের আগেই প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব বা মহামারি শুরু হওয়ার আগেই মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।’

গবেষকেরা সম্ভাব্য ভাইরাসজনিত হুমকি শনাক্তে পরিচালিত বিভিন্ন নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে সংগৃহীত বিভিন্ন করোনাভাইরাসের জেনেটিক তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব জেনেটিক কোড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এআই একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ নকশা করে।

অ্যান্টিজেন হলো টিকার সেই উপাদান, যাকে শনাক্ত করে আক্রমণ করতে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা প্রশিক্ষিত হয়। গবেষকদের মতে, নতুন এই সুপার-অ্যান্টিজেন রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে পারে, যাতে পুরো করোনাভাইরাস পরিবারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা তৈরি হয়। এমনকি ভাইরাসে নতুন মিউটেশন ঘটলেও বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নতুন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এর কার্যকারিতা বজায় থাকতে পারে।

অধ্যাপক হিনি বলেন, ‘এই প্রযুক্তি গবেষকদেরও বিস্মিত করছে।’ তার ভাষায়, ‘এটি শুধু বর্তমানের ভাইরাস নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রোগ ও প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।’ 

তিনি এটিকে মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেন।

মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেন ৩৯ জন। এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল টিকাটি নিরাপদ কি না, তা যাচাই করা। বর্তমানে প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা চলছে। এর মাধ্যমে টিকাটি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কতটা কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর টিকাটির প্রভাব এখন পর্যন্ত ‘মডেস্ট’ বা মধ্যম মাত্রার। তবে ফলাফলটি গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সল ফস্ট (যিনি পরীক্ষাগুলোর কিছু অংশ পরিচালনা করেছেন) বলেন, ‘এআই-নির্ভর এই টিকা নকশা প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’ 

তার মতে, ভাইরাস যখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন সম্ভাব্য মহামারির জন্য টিকা নকশা করতে এই প্রযুক্তি অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

কেমব্রিজের গবেষকেরা বর্তমানে এমন একটি সর্বজনীন মৌসুমি ফ্লুর টিকা নিয়ে প্রাণীদের ওপর গবেষণা চালাচ্ছেন, যা প্রতি বছর নতুন করে পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। 

পাশাপাশি তারা এইচ৫ এন ১ বার্ড ফ্লুর টিকাও তৈরি করছেন, যাতে বর্তমানে পাখিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি ভবিষ্যতে মানব মহামারিতে পরিণত হলে তা মোকাবিলা করা যায়। 

এ ছাড়া ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের বিরুদ্ধে টিকা উন্নয়নেও কাজ চলছে। এই শ্রেণির রোগগুলোর মধ্যে ইবোলার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে যে ইবোলার প্রাদুর্ভাব চলছে, তার জন্য দায়ী ভাইরাসের প্রজাতিটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড (যিনি এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না) বলেন, প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণাগুলোতে এই পদ্ধতি আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। 

তার মতে, এমন ধরনের রোগ প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আগে অনেকে ধারণা করেননি।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত মূল্যায়ন হবে মানবদেহে পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে। কারণ, মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা পরীক্ষাগারের ইঁদুরের তুলনায় অনেক বেশি জটিল এবং দীর্ঘদিনের সংক্রমণ-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। অধ্যাপক পোলার্ড আরও বলেন, টিকা গবেষণার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে এআই এমনকি আগাম অনুমানও করতে পারবে, কোনো টিকার প্রতি মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এতে টিকা উন্নয়নের সময় কমবে এবং আরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের বৈজ্ঞানিক পরিচালক অধ্যাপক ম্যারিয়ান নাইট বলেন, এআই-নকশাকৃত ‘সুপার-অ্যান্টিজেনের’ এই সফল পরীক্ষা বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাস সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানমন্ত্রী লর্ড ভ্যালান্স বলেন, এটি ব্রিটিশ বিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। 

তার মতে, গবেষণা দক্ষতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানুষের ওপর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে টিকা উন্নয়ন ও সরবরাহের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্বজুড়ে মানুষের উপকারে আসবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ভিওডি বাংলা/জা  

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৬শ’
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৬শ’
আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন আজ
আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন আজ
হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু