শপথের তিন দিনের মাথায় মন্ত্রিসভা ছাড়লেন রামালিঙ্গা রেড্ডি

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের নতুন সরকার গঠনের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। মন্ত্রিসভা গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডি। পছন্দের মন্ত্রণালয় না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় রামালিঙ্গা রেড্ডিকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি দাবি করেছেন, এর আগে তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শুক্রবার (৫ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। এর আগে বুধবার (৩ জুন) নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন করা হলে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা।
পদত্যাগের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রামালিঙ্গা রেড্ডি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ডি কে শিবকুমার আমার বাড়িতে এসে আমাকে বেঙ্গালুরুর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে দুবার একই প্রতিশ্রুতি দেন। আমি নিজে কোনো দপ্তর চাইনি, তিনিই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিশ্রুতির বিপরীতে তাকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এ কারণেই মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
রেড্ডি স্পষ্ট করে বলেন, এখন যদি তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরও দেওয়া হয়, তবুও তিনি আর ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভায় ফিরে যাবেন না। তবে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকবেন এবং একজন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে জনগণের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রামালিঙ্গা রেড্ডি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। ওই সময় তিনি ২০২৩ সালে দেওয়া একটি পুরোনো প্রতিশ্রুতির বিষয়ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মরণ করিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের শুরুতেই এমন ঘটনা কংগ্রেস নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, রামালিঙ্গা রেড্ডি কর্ণাটক কংগ্রেসের একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার আকস্মিক পদত্যাগ সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় বিরোধী দলগুলোও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নতুন সরকারের যাত্রার শুরুতেই একজন জ্যেষ্ঠ নেতার পদত্যাগ কর্ণাটকের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
ভিওডি বাংলা/জা







