ধানমন্ডি লেক বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

ধানমন্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। লেকের সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পানির মান উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে হকার ও রিকশাচালকদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
রোববার (৭ জুন) সকালে নাগরিক সেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে ডিএসসিসি গণশুনানিতে তিনি এসব কথা জানান।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই সিটি করপোরেশন কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধান করা হবে। তিনি বর্জ্য অপসারণে রেকর্ড অগ্রগতির কথাও জানান এবং নাগরিকদের নিয়ম মানার আহ্বান জানান।
আবদুস সালাম বলেন, গত কয়েকটি ঈদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে কাজ করেছে। তবে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে, কারণ যেকোনো সময় বর্জ্য ফেলা হলে তা দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে লেক ও আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ চলছে। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। তবে লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, এটি একটি উন্মুক্ত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশসমৃদ্ধ স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে, যেখানে এলাকার মানুষ অবাধে হাঁটাচলা ও অবসর কাটাতে পারবেন। সীমিত পরিসরে কিছু সুযোগ-সুবিধা থাকতে পারে, তবে পুরো এলাকাকে রেস্টুরেন্ট বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত করা যাবে না।
তিনি বলেন, ধানমন্ডিকে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও জনসেবামূলক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটির পরিবেশ আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আবদুস সালাম জানান, এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র নিউ মার্কেটকেও আরও পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বাজার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বাজার ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অনেক স্থানে হকারদের কারণে ফুটপাত ও সড়ক দখল হয়ে যাচ্ছে এবং ময়লা-আবর্জনার কারণে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। অথচ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত কর ও সেবামূল্য পরিশোধ করলেও হকাররা অনেক ক্ষেত্রে সেই সুবিধা ভোগ করছেন, কিন্তু পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সমান দায়িত্ব পালন করছেন না। তাই সবার জন্য সমান নিয়ম ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







