• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

দিল্লিতে হত্যাকাণ্ড

সম্পত্তির লোভে ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে শিক্ষিকাকে খুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৭ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকাকে হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিল্লিতে এসে শিক্ষিকাকে খুন করেন এ দম্পতি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত বুধবার পূর্ব দিল্লির বাসুধারা  এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর তিন দিনের মধ্যে অভিযান চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বংশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা মুখোশ পরে একটি ভাড়া গাড়িতে ঘটনাস্থলে আসে। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের আবাসিক ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে তারা সিঁড়ি ব্যবহার করে ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে শিক্ষিকার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে ধারালো তাকে অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

তদন্তকারীরা জানান, সন্দেহ এড়াতে দম্পতি তাদের নাবালক ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। পরিচিতজনের মতো আচরণ করে তারা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে।  হত্যাকাণ্ডের প্রায় আধা ঘণ্টা পর পোশাক পরিবর্তন করে তারা নিচে অপেক্ষমাণ গাড়িতে করে এলাকা ত্যাগ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক ভবনে যাতায়াত করা প্রায় ২০০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৩ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্তে সাতটি বিশেষ দল চারটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে শত শত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গে নিহত শিক্ষিকার একটি মূল্যবান সম্পত্তি রয়েছে। সেই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতি। তারা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে দেবস্মিতা পাল তাদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ কারণেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা পুলিশের।

ঘটনার পর নিহতের বোন দেবারতি পালের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বোনের মরদেহ দেখতে পান। মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং হাতের কব্জির শিরা কাটা অবস্থার আলামত পাওয়া যায়।

ফ্ল্যাটে কোনো ধরনের লুটপাটের চিহ্ন না থাকায় শুরু থেকেই ডাকাতির সম্ভাবনা নাকচ করে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, আন্তঃরাজ্য অভিযান এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইতিহাসে নজিরবিহীন সম্পদ, ট্রিলিয়ন ডলারের দ্বারপ্রান্তে ইলন মাস্ক
ইতিহাসে নজিরবিহীন সম্পদ, ট্রিলিয়ন ডলারের দ্বারপ্রান্তে ইলন মাস্ক
হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত দুই ইসরায়েলি সেনা
হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত দুই ইসরায়েলি সেনা
সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের নজিরবিহীন হামলা
সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের নজিরবিহীন হামলা