বরগুনায় ৭৩০ দরিদ্র পরিবারকে ২ হাজার ১৯০ গাছের চারা বিতরণ

একটি গাছ, একটি প্রাণ-সবুজ হোক বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেছে ব্র্যাকের আল্ট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ইউপিজি) কর্মসূচি। আড়ং সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের সহযোগিতায় পরিচালিত এ উদ্যোগের আওতায় জেলার ৭৩০টি পরিবারের মাঝে মোট ২ হাজার ১৯০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ৩৬০টি পরিবারকে ১ হাজার ৮০টি চারা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বরগুনা সদর এরিয়া অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মো. তুহিন আলম, ইউপিজি কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অমর কৃষ্ণ ঘোষ, মাইক্রোফাইন্যান্স দাবি কর্মসূচির এরিয়া ম্যানেজার রুবেল মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, এসডিপি কর্মসূচির এরিয়া ম্যানেজার আসাদুর রহমান, এসও-ইএসআই রেশমা পারভীন এবং সদর শাখা অফিসের ইউপিজি শাখা ব্যবস্থাপক মো. শরীফুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
চারা বিতরণকৃত গাছগুলোর মধ্যে ছিল আম, নিম ও মেহগনি।
মো. তুহিন আলম জানান, এসব গাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে উপকারভোগী পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষায়ও সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে ইউপিজি কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অমর কৃষ্ণ ঘোষ। তিনি বলেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আড়ংয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই জীবিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি পরিবারকে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছের পরিচর্যাতেও যত্নবান হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি আড়ংকে ধন্যবাদ জানান এবং ব্র্যাক ইউপিজি কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ইউএনও মো. শাহ আজিজ বলেন, বরগুনা সদর উপজেলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক ও অতি দরিদ্র সদস্যদের কল্যাণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
চারা নিতে আসা উপকারভোগী সদস্যদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকেই জানান, নিজেদের বাড়ির আঙিনায় এসব গাছ রোপণ করে ভবিষ্যতে ফল ও কাঠের মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে পারবেন তারা।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা উপকারভোগীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন এবং সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তা পরিচর্যার আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/জাহিদুল ইসলাম মেহেদী/জা







