যুক্তরাষ্ট্রেও হয়ে গেলো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী উৎসবের শেষ অধ্যায়ও অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্রে। মেক্সিকো সিটি ও কানাডার টরন্টোর পর এবার বিশ্বকাপের তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের বিখ্যাত সোফি স্টেডিয়ামে। আর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়েই মাঠে গড়াচ্ছে ‘ডি’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ, যেখানে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল প্যারাগুয়ের।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি বিশেষ এক উপলক্ষ। ১৯৯৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করছে দেশটি। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আয়োজকরা এটিকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোর একটি হিসেবে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতালেন বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকজন সংগীত তারকা। মার্কিন পপ সুপারস্টার ক্যাটি পেরি, র্যাপ তারকা ফিউচার, ব্রাজিলিয়ান গায়িকা আনিত্তা, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় শিল্পী লিসা, নাইজেরিয়ান আফ্রোবিট তারকা রেমা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা টাইলা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের সামনে নিজেদের পরিবেশনা তুলে ধরেন তারা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, শিল্পী নির্বাচন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়, বৈচিত্র্যময় অভিবাসী সমাজ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মিলনস্থল হিসেবে দেশটির অবস্থানকে তুলে ধরার জন্য। তার ভাষায়, ‘এ আয়োজন শুধু ফুটবল নয়, বরং সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং বৈশ্বিক ঐক্যেরও এক উদযাপন।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ, এবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার অপেক্ষায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে। দুই দলই একে অপরের পরিচিত প্রতিপক্ষ। গত বছরের নভেম্বরে পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে মউরিসিও পচেত্তিনোর দল ২-১ গোলে হারিয়েছিল প্যারাগুয়েকে। সেই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চাইবে স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর এই প্রথমবারের মতো আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে দলটি। কনমেবল বাছাইপর্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে টিকিট নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। বাছাইপর্বে কয়েকটি চমকপ্রদ জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের লড়াইয়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের একমাত্র মুখোমুখি হওয়া ম্যাচ। প্রায় এক শতাব্দী পর আবারও বিশ্বকাপের আসরে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
স্বাগতিক সমর্থকদের প্রত্যাশা, বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাঠেও দারুণ এক পারফরম্যান্স উপহার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। আর প্যারাগুয়ে চাইবে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে। ফলে বিশ্বকাপের শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ের ম্যাচ- দুটিই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







