প্যান প্যাসিফিকে যুব উদ্যোক্তা নীতিমালা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জাতীয় যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তবভিত্তিক করতে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ধারাবাহিক পরামর্শ কর্মশালা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকায় প্রথম বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে নীতিমালার আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় সহযোগিতা করেছে ইউএনডিপি, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিইডি)। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, যিনি নীতিমালার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার মূল দিকগুলো তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে নীতিগত কাঠামোর পাশাপাশি বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং সময়োপযোগী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ফলাফল বাস্তবে কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, তা এখন গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
নারী যুব উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। তার মতে, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই যুব নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা সহায়তা কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।

প্রতিমন্ত্রী কর্মশালার অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, “নতুন করে চিন্তা করতে হবে, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া।” তিনি অংশীজনদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, উন্নয়ন সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা, উদ্যোক্তা সংগঠন, স্টার্টআপ প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা আলোচনায় যুক্ত হন।
আলোচনায় যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, সহজ অর্থায়ন প্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা নীতিমালা বাস্তবায়নে আরও বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







