দেশে প্রথমবার টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি

দেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ কারিগর তৈরি করার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পের কর্মীদের দক্ষতা মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএ'র সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) উদ্যোগে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং (লেভেল-২)’ পেশার জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) এবং কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ভ্যালিডেশন কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এনএসডিএ'র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু আহমদ ছিদ্দীকী এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন।
ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক পেশার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শ্রমঘন খাতগুলোকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার আওতায় আনতে কাজ করছে এনএসডিএ। টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের জন্য প্রণীত এই মানদণ্ড বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে নীতি প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও সনদায়নের পাশাপাশি শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করা হচ্ছে। গত ১০ মাসে বিভিন্ন খাতে ৮৫টি নতুন ও যুগোপযোগী কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এবং প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার জন্যও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
এনএসডিএ'র তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দক্ষতা সনদের মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বের ৫৮টি দেশে দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশে প্রায় ৭০ হাজার সনদধারীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ২০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশভিত্তিক ও ভাষাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষতা সনদকে আরও আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য করতে ডিজিটাল স্বাক্ষর ও কিউআর কোডসম্বলিত জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথি আবু আহমদ ছিদ্দীকী বলেন, তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত। টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিংয়ের জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন টাঙ্গাইলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে এনএসডিএ'র অধীনে নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মির্জা নুরুল গনি শোভন বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বীকৃতির জন্য সরকার, শিল্পখাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের মানদণ্ড উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একাডেমিয়া, সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, এনএসডিএ'র কর্মকর্তা, পরামর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। কর্মশালায় টাঙ্গাইল শাড়ি উইভিং পেশার জন্য প্রণীত সিএস ও সিএডি পর্যালোচনা এবং ভ্যালিডেশন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে এসব নথি। যা ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল শাড়ি শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







