এ যেন 'শেষের কবিতা'র মহাকাব্যিক শুরু!

কাতার বিশ্বকাপে ট্রফি জিতলেও হ্যাটট্রিক করার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। তবে এবার আটকে রাখা গেল না লিওনেল মেসিকে। ক্যারিয়ারের শেষে এসে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন এই ফুটবল জাদুকর।
অফসাইডের খাঁড়ায় প্রথম গোল বাতিলের হতাশা ভুলে, নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকে রাজকীয়ভাবে রাঙালেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজের চিরচেনা পায়ের জাদুতে তুলে নিলেন বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আলজেরিয়ার জালে বল পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ফুটবলের রাজকীয় রেকর্ডের এভারেস্টে পা রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি মেসির ১৬তম গোল। আর এই জাদুকরী গোলের মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ ১৬ গোল করা জার্মানির সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোকে।
বুধবার (১৭ জুন) ম্যাচের ১৬ মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক অসাধারণ দূরপাল্লার শটে আলবিসেলেস্তেদের লিড এনে দিয়েছিলেন মেসি। এরপর ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের পায়ে নিয়ে নেন এই খুদে জাদুকর।
প্রথমার্ধের বিরতি পর মাঠে নেমেই আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনে মাতেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও মেসির চেনা ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের শেষ ভাগে এসে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক চতুরতায় ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান মেসি। আর তাতেই পূর্ণ হয় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক।
ম্যাচের শুরুতে অফসাইডের ফাঁদে ফেলে আলজেরিয়া মেসিকে কিছুটা চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত মহাতারকার হ্যাটট্রিক-বন্যা রুখতে পারেনি তারা। মেসির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ভর করে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







