জুমার দিনের ৮ গুরুত্বপূর্ণ আমল

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। পবিত্র এই দিনে কিছু বিশেষ আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। নিচে জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো—
১. জুমার দিনের মর্যাদা অনুধাবন করা
আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়েছে এবং তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে বৈধ কোনো কিছু প্রার্থনা করলে তা কবুল করা হয়। একই সঙ্গে এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)
২. জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার নামাজ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে, পবিত্রতা অর্জন করবে, সুগন্ধি ব্যবহার করবে, মসজিদে গিয়ে মনোযোগসহ খুতবা শুনবে এবং ইমামের বক্তব্যের সময় নীরব থাকবে, আল্লাহ তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
৩. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
জুমার দিন গোসল করা, পরিচ্ছন্ন থাকা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমভাবে গোসল করে আগে আগে মসজিদে যায় এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, সে প্রতি কদমে এক বছর নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব লাভ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)
৪. আগে মসজিদে যাওয়া
জুমার দিন আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সবার আগে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। পরবর্তী সময়ে আগতদের জন্য গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সমপরিমাণ সওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)
৫. বেশি বেশি দোয়া করা
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে কোনো মুসলিম কল্যাণকর কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। তিনি বিশেষভাবে আসরের পরের সময়কে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)
৬. সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলো থাকবে। (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩)
৭. তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা
জুমার দিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার উত্তম সময়। আন্তরিক তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভ করতে পারে। হাদিসে জুমার দিনের বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে গুনাহ মাফের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
৮. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা
জুমার দিনে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সর্বোত্তম দিন। এ দিনে বেশি পরিমাণে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ উম্মতের দরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)
জুমার দিনের এসব আমল একজন মুসলমানের ঈমান, তাকওয়া ও আধ্যাত্মিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ দিনের ফজিলত ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে যথাসম্ভব বেশি নেক আমল করার চেষ্টা করা উচিত।
ভিওডি বাংলা/আ







