• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

৮০ টাকার নিচে মিলছে না সবজিও

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার করতে এসে বাড়তি দামে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে সবজি, মাছ, মাংস ও মসলাজাতীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। 

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া ও মোহাম্মদপুর এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় কমেনি। বরং দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্য স্থায়ী হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। 

সবজির বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া ভেন্ডি ও পটল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

অন্যদিকে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা এবং জালি কুমড়া ৫০ টাকায়। শাকের বাজারেও রয়েছে বাড়তি দাম। লালশাক ১৫ টাকা আঁটি, পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা, আর কচুশাক ও কলমিশাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা আঁটি দরে।

ফলের বাজারে কলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যদিও আলুর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।

মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের চাপ কমেনি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ টাকা এবং সোনালি ও লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

মাছের বাজারে বড় আকারের ইলিশের দাম এখনও আকাশছোঁয়া। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা কেজিতে। আধা কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া রুই ও কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় সিলভার কার্প ২০০ টাকা এবং ছোট সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোয়াল মাছের কেজি ৭০০ টাকা, হাইব্রিড ট্যাংরা ৮০০ টাকা, পোয়া মাছ ৫০০ টাকা এবং কাচকি মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও কমেনি দাম। দেশি রসুন ১০০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুন ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চালের বাজারে স্বর্ণা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল ৬০ টাকা এবং মিনিকেট ও মোজাম্মেল চাল ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে দেশি চিকন মসুর ডাল ১৬০ টাকা, বড় মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই পণ্য সুপারশপে আরও ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মিরপুর-১০ এলাকায় বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শাহিন মিয়া বলেন, “বাজারে জিনিসপত্রের দাম অনেক দিন ধরেই বেশি। নতুন করে দাম না বাড়লেও বর্তমান দামেই সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। আয় বাড়েনি, কিন্তু সংসার চালানোর খরচ বাড়ছেই।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে মাছ, মাংস ও সবজির দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রথমবারের মতো ভ্যাটসহ সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯০১৩ টাকা
প্রথমবারের মতো ভ্যাটসহ সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯০১৩ টাকা
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন