১৮ বছর পর ধরা পড়লো তিন খুনের আসামি

ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার বহুল আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. ইদ্রিস শিকদারকে (৪৯) রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। প্রায় ১৮ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-৩ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন রাজারবাগ শাপলাকানন এলাকার একটি টিনশেড বাসায় অভিযান চালিয়ে ইদ্রিস শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি পরিচয় গোপন রেখে ছদ্মবেশে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের তথ্যমতে, ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মানিক শিকদারের পরিবারের সঙ্গে ইদ্রিস শিকদার ও তার ভাই কুদ্দুস শিকদারের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে ২০০৮ সালের ২৭ জুলাই রাতে পূর্বপরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায় ইদ্রিস ও তার সহযোগীরা। হামলায় মানিক শিকদার ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শেফালী বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাদের কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মূল ঘটনা আড়াল করতে ইদ্রিস শিকদার নিজেই বাদী সেজে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় কাঠালিয়া থানায় দায়ের হওয়া জিআর মামলা নম্বর-৮৫/২০০৮-এর তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে ঝালকাঠির বিশেষ দায়রা জজ আদালত মামলার শুনানি শেষে ইদ্রিস শিকদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
র্যাব আরও জানায়, মামলার পর থেকেই ইদ্রিস দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি নাম-পরিচয় ও বেশভূষা পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে ছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
র্যাব-৩ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তরকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







