সম্প্রীতি বিনষ্টে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উসকানি এখনো অব্যাহত: ড. মাহবুব উল্লাহ

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লির ইমিগ্রেশনে শিষ্টাচার বহির্ভূত যে আচরণ করা হয়েছে তা কেবল ব্যক্তিকে নয়, বাংলাদেশকে অবমাননার অপচেষ্টা, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগের বিষয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি ও অপপ্রচার এখনো অব্যাহত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।
তিনি আরও বলেছেন, এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান ও সচেতন থাকতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ এখন যে ভাষা ব্যবহার করে তা অত্যন্ত নোংরা, নিকৃষ্ঠ ও অরুচিকর। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উস্কানি প্রদানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা আছে। গুজব ও অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে পরাজিত শক্তি পুনরুত্থানের পথ খুঁজে পাবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ডিজিটাল আসক্তি তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার শঙ্কা আছে। তবে তাদের এখন সেই শক্তি নেই। আগামী ২৩ তারিখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারবে এমন শক্তি তাদের এখনো হয় নাই বলেও মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
রোববার (২১ জুন) এফডিসিতে সহিংসতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ যাতে কোন ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে তার জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির লক্ষ্যে এক শ্রেণীর মানুষ মুহূর্তের মধ্যে বানোয়াট, মিথ্যা তথ্য ও গুজব ভাইরাল করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল আসক্তিতে ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মাদকাশক্তির মতোই এই আসক্তি শিক্ষার্থীদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। সোশ্যাল মিডিয়া কোনো ক্ষতিকর মাধ্যম না হলেও এর অপব্যবহারই মূলত অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তরুণদের। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক সচেতনতা ও সাইবার নিয়ন্ত্রকদের নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
“সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটি বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাছুদুর রহমান, সাংবাদিক মিরাজ মাহবুব ইফতি, সাংবাদিক মো: আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক জাফর ইকবাল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ভিওডি বাংলা/এফএ







