গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি, সরকারের সাফল্য ম্লান হতে পারে: সুজন

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম চার মাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহারের কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়াকে। তবে একই সময়ে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে উঠে এসেছে গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ও দার্শনিক তাৎপর্য যথাযথভাবে অনুধাবনে অনীহা কিংবা অবহেলার অভিযোগ। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মনে করছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও গড়িমসি সরকারের নানা দৃশ্যমান ও বস্তুগত সাফল্যকেও ম্লান করে দিতে পারে।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'বর্তমান সরকারের ৪ মাস: প্রত্যাশা, অর্জন ও করণীয়' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে সুজন।
গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার
সভায় লিখত বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় দিলিপ কুমার সরকার। এসময় সরকারের ৪ মাসে সরকারের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি নেতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।
সংগঠনটির মতে, সরকারের প্রথম ১২০ দিনকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না, বরং এটিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
দিলিপ কুমার সরকার বলেন, বিদ্যমান আর্থিক বাস্তবতায় সরকার লাখ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থানসহ মোটামুটি মানসম্মত জীবন ধারণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই তরুণ সমাজের সমর্থন ও আনুগত্য ধরে রাখতে হলে তাঁর সরকারকে অবশ্যই গণঅভ্যুত্থানের মূল বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা, সংস্কার কমিশনের সুপারিশে স্পষ্ট অঙ্গীকার, মেধাতিত্তিক নিয়োগ, ব্যাংকিং খাতে কঠোর পুনর্গঠন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ, সংযমী অর্থনীতি, ব্যবসায়াবান্ধব রাজস্বনীতি, নারী ক্ষমতায়ন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারত, তবে আমরা বলতে পারতাম যে সরকার সঠিক পথে যাত্রা শুরু করেছে।
সংস্কার প্রশ্নে জড়তা, নিয়োগে দলীয় আনুগত্য, ব্যাংকিং খাতে আপস, বাজেটে অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে নির্বাচিত পদক্ষেপ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অনীহা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সুজন।
লিখিত বক্তব্যে দিলিপ কুমার সরকার বলেন, বাংলাদেশ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে কেবল সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; শাসনব্যবস্থার চরিত্র পরিবর্তন প্রয়োজন।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের ক্ষমতায় আরোহনের সিঁড়ি ছিল না জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান ছিলো রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ার ঐতিহাসিক ডাক ছিল। প্রথম ১২০ দিন ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আর যদি সেই ডাক উপেক্ষিত হয়, তবে জনগণের প্রত্যাশা দ্রুত হতাশায় পরিণত হবে- যা কোনো নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।
সরকারের প্রথম চার মাসে ৯টি প্রাথমিক সাফল্য তুলে ধরা হয়।
১. ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসমেত মওকুফ।
২. ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট পর্ব সমাপন।
৩. কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন; ৪) খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন।
৫. বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন (পিএসএসি) গঠন ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়।
৬. শতাধিক অধ্যাদেশকে সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হুবহু অথবা সংশোধিত আকারে আইনে রূপান্তর।
৭. মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোটামুটি দক্ষতার সাথে মোকাবিলা, যদিও তেল মজুদদারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
৮. কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সম্পন্ন করা।
৯. পররাষ্ট্র নীতিতে সাফল্যের স্বাক্ষর হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর জয়ী হওয়া।
ভিওডি বাংলা/জা







