অবশেষে যমজ কন্যাসন্তানসহ স্ত্রীকে ঘরে নিলেন স্বামী

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় তালাক ও সন্তান বিক্রির হুমকির শিকার হওয়া স্ত্রীকে অবশেষে ঘরে তুলে নিয়েছেন স্বামী রাকিবুল ইসলাম। শুধু স্ত্রীই নয়, দুই কন্যাসন্তানকেও বুকে জড়িয়ে নতুন করে সংসার শুরু করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় মহেশপুর থানার উদ্যোগে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়। পরে কাজীর উপস্থিতিতে ধর্মীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের কোলা গ্রামের রিনা খাতুন যমজ কন্যাসন্তানের মা হতে যাচ্ছেন—এ খবর জানার পর তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। সন্তান জন্মের পর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও রিনার কোনো খোঁজ নেননি রাকিবুল। উল্টো তার কাছে তালাকনামা পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশনায় পুলিশি তৎপরতা ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মহেশপুর থানায় হাজির হন রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে পুলিশের মধ্যস্থতায় নিজের ভুল স্বীকার করে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হন তিনি।
সংসারে নতুন করে ফিরতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন রিনা খাতুন। অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সারা জীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা শুধু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েই গুরুত্ব দিইনি; শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং একটি ভেঙে যাওয়া পরিবারকে পুনরায় একত্রিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছি। কাজীর মাধ্যমে তাদের পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দম্পতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হবে।’
ভিওডি বাংলা/আ







