বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই স্থানে দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে পৌর শহরের চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজাসহ আরও কয়েকজন। আহতদের প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা বিএনপি। একই সময় ও একই স্থানে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয় উপজেলা জামায়াত। এতে পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়।
ঘটনার পর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও আহত করার অভিযোগ তুলেছে।
বিএনপির অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং একাধিক নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, সংঘর্ষের পর গভীর রাতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালানো হয়েছে। এছাড়া তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষের পর থেকেই পলাশবাড়ী উপজেলা জুড়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের পর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।’
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য