• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বান্দরবানে বন্যার উন্নতি, তবু বিপৎসীমার ওপরে দুই নদীর পানি

বান্দরবান প্রতিনিধি    ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো জনদুর্ভোগ কাটেনি। সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও যোগাযোগ সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদরের কয়েকটি এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স মিল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাংগু নদীর তীরবর্তী অঞ্চল ও ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে।

জেলার বিভিন্ন সড়কে এখনো নৌকায় পারাপার চলছে। আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগরসহ কয়েকটি এলাকায় সড়কের ওপর দিয়েই নৌকা চলাচল করছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের খাবার পানি পৌঁছে দিচ্ছে।

লামা উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক বিপ্লব দাশ জানান, বুধবার বিকেলে আকস্মিক বন্যার পানিতে লামা বাজার প্লাবিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি। তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যদিও মূল সড়কের পানি নেমে যাওয়ায় লামা-চকরিয়া সড়কে যান চলাচল আবার শুরু হয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর দোকানিরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। রাস্তাঘাট কাদা ও আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা সুজন চৌধুরী বলেন, লামা-আলীকদম সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো অনেক মানুষ অবস্থান করছেন। তিন থেকে চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটেও ভুগছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনো ফেরেনি। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের থুইলা অং পাড়ায় মধ্যম গর্জনখালের ওপর নির্মিত একটি পাকা সেতু পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

অন্যদিকে রুমা ও রোয়াংছড়িতে এখনো বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।

জেলা সদরে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ পানি পরিশোধন ইউনিটের মাধ্যমে পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করে স্থানীয়দের মধ্যে বিতরণ করছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

থানচি উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক মংবোওয়াচিং মারমা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হয়েছে। গত ৫ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত টেলিটকের নেটওয়ার্ক ছিল না। শুক্রবার সকালে টেলিটক নেটওয়ার্ক ফিরে এলেও রবির নেটওয়ার্ক এখনো সচল হয়নি।

বান্দরবান বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ জানান, বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ঢাকার সরাসরি বাস চলাচল এখনো শুরু করা যায়নি। কারণ বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের কিছু অংশে এখনো পানি রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাস চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বাসসকে বলেন, "সবাই সম্মিলিতভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে কোনো ধরনের ত্রাণে ঘাটতি হয়নি।"

এদিকে, বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী শুক্রবার দুপুরে শহরের বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাস স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড ভিশন আশ্রয়কেন্দ্র ও সাংগু স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন।

সাচিং প্রু জেরী বাসসকে বলেন, "বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। আমার সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে।"

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ৩৩ গ্রাম প্লাবিত
ফাইল ছবি
বন্যায় চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে প্রশাসন