মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশে বারিশা হক, উপদেষ্টা সোহাগ-গৌতম

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশ। এবারের আয়োজনকে আরও সুসংগঠিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেশের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড প্রমোটার ও মডেল বারিশা হককে ‘ন্যাশনাল কালচারাল আইকন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব গৌতম সাহা উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। ডিজিটাল প্রোডাকশন বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন মুস্তফা তারেক হাদি।
রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইমেকার্স বাংলাদেশ-এর পরিচালক নূর সিবা নবনিযুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে এবারের আয়োজনের সাংগঠনিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, শুধুমাত্র সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ফ্যাশন ও নারীর আত্মবিশ্বাসকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ন্যাশনাল কালচারাল আইকন হিসেবে বারিশা হক দেশের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিচয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনের দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ এবং গৌতম সাহা উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিযোগিতার সার্বিক পরিকল্পনা, প্রতিযোগীদের গ্রুমিং, মঞ্চ উপস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন। আয়োজকদের বিশ্বাস, তাদের অভিজ্ঞতা প্রতিযোগিতাকে আরও পেশাদার ও মানসম্মত করে তুলবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগিতার উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ডিজিটাল প্রোডাকশন হেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মুস্তফা তারেক হাদি। তিনি প্রতিযোগিতার ডিজিটাল কনটেন্ট পরিকল্পনা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, ভিডিও প্রোডাকশন এবং অনলাইন প্রচারণার নেতৃত্ব দেবেন। আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে প্রতিযোগিতাকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইমেকার্স বাংলাদেশ-এর পরিচালক নূর সিবা বলেন, “মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশ শুধু একটি বিউটি পেজেন্ট নয়; এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সৌন্দর্য, মেধা ও নারীর আত্মবিশ্বাসকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। আমরা এমন একটি আয়োজন করতে চাই, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠবে।”
তিনি বলেন, “এই লক্ষ্য সামনে রেখেই আমরা বারিশা হককে ন্যাশনাল কালচারাল আইকন, ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ও গৌতম সাহাকে উপদেষ্টা এবং মুস্তফা তারেক হাদিকে ডিজিটাল প্রোডাকশন হেড হিসেবে যুক্ত করেছি। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
বারিশা হকের বিষয়ে নূর সিবা বলেন, “দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে তিনি একজন সফল ব্র্যান্ড প্রমোটার ও মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তার ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয়তা এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার দক্ষতা এই আয়োজনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
আয়োজকরা জানান, খুব শিগগিরই প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিচারক প্যানেল প্রকাশ, অফিসিয়াল ক্রাউন রিভিল এবং প্রতিযোগীদের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন। এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এবারের প্রতিযোগিতা পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ, গ্রুমিং, মঞ্চ উপস্থাপনা, ফ্যাশন, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে বিজয়ী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
নূর সিবা বলেন, “আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যা শুধু একজন বিজয়ী নির্বাচন করবে না; বরং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও নারীর সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। ভবিষ্যতে এই আয়োজন দেশের পেজেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে বলে আমরা আশাবাদী।”
আয়োজকরা আরও জানান, এবারের মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশ-এর অফিসিয়াল ব্রডকাস্ট পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে গাজী টিভি। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্ব এবং বিশেষ অনুষ্ঠান টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও সম্প্রচার করা হবে। এর ফলে দেশের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত দর্শকরাও সহজেই পুরো আয়োজন অনুসরণ করতে পারবেন।
তাদের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ উপদেষ্টা, শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব, আধুনিক ডিজিটাল প্রোডাকশন এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনার সমন্বয়ে এবারের মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশ দেশের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও নারীর সক্ষমতাকে বৈশ্বিক পরিসরে নতুনভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য