চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতাকে বেধড়ক পিটুনি, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা

রাজশাহীর বাগমারায় চাঁদাবাজি ও মাদক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় যুবদলের এক সাবেক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত আসাদুল ইসলাম বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর পর ঘটনাটি সামনে আসে। আহত আসাদুল ইসলাম গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা কমিটির সদস্য। তিনি ডিশ ব্যবসা, অর্থাৎ ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে যুক্ত।
অভিযুক্ত তিনজনই গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন, নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম।
আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গোয়ালকান্দি বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। রাত ১০টার দিকে পারভেজ রানার নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন ছাত্রদল নেতা সেখানে গিয়ে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার সময় পাশে থাকা এক তরুণ তার মোবাইল ফোন দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পারভেজ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এরই জেরে এবং চাঁদা না দেওয়ায় পারভেজ রানার নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পারভেজ রানা। তার দাবি, কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি ডিস লাইন আসাদুল দখল করেন, যার মালিক ছিলেন ফাহিমা নামের এক নারী। ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সমঝোতা বৈঠক ছিল। পারভেজের ভাষ্য, ফাহিমার অনুরোধে তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে আসাদুল ফাহিমার ওপর চড়াও হলে তারা তাকে উদ্ধার করেন। আসাদুলের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন বলেন, "ঘটনাটি আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। পরে এলাকায় খোঁজ নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলবো। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য