{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
ফাইনালের ১ দিন আগে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেনটিনায় যোগ দিলেন দুই ব্রাজিল সমর্থক গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারও ব্যর্থ হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান মালয়েশিয়ায় ৬ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, ৩১ পাসপোর্ট জব্দ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরোনো ফর্মুলা চলবে না: আখতার হোসেন ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জাতীয় এআই নীতি প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ: আইসিটি মন্ত্রী বার্ন ইনস্টিটিউটে দীপুর দাপট, নেপথ্যে পরিচালক নাসির উদ্দীন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত দুইদিনে ডিএমপির ৩৫১২ মামলা বন্যার্ত কৃষকদের বীজ বিতরণে অনিয়ম সহ্য করা হবে না: কৃষিমন্ত্রী মেধার সঙ্গে দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটাতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

বার্ন ইনস্টিটিউটে দীপুর দাপট, নেপথ্যে পরিচালক নাসির উদ্দীন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ পি.এম.
বার্ন ইনস্টিটিউটে দীপুর দাপট, নেপথ্যে পরিচালক নাসির উদ্দীন
গ্রাফিক্স: ভিওডি বাংলা

যে পদ বা পদবি নেই ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে, সেই পদে রহস্যজনকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. তোফায়েল আহমেদ দীপু নামে এক গাড়িচালক। তাকে পরিচালক নিজ স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন। যিনি নিজেকে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের ‘পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএস-টু’ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলেও এই পরিচয় উল্লেখ আছে।

প্রশ্ন উঠেছে যে, কোন আইনে ‘পদ’ সৃষ্টি করে দীপুকে নিয়োগ দিলেন পরিচালক নাসির উদ্দীন?

অভিযোগ রয়েছে, দীপু ইনস্টিটিউটের টেন্ডার থেকে শুরু করে, আউটসোসিং নিয়োগ, কেনাকাটাসহ পরিচালকের হয়ে এই হাসপাতালের সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন। ১৯ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ পাওয়া দীপু চড়েন ব্যক্তিগত একটি বিলাসবহুল গাড়িতে। ওই মিতসুবিশি এক্সপানডার গাড়িটির নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৬-৭৪১৪, যা দীপুর মালিকানাধীন বলে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে ভিওডি বাংলা।

তবে প্রশ্ন উঠেছে-  ১৯ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী ব্যক্তিগত গাড়ি পেলেন কোথায়?

ভিওডি বাংলার কাছে আসা কাগজপত্র অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সঙ্গে ‘এএমজেড হাসপাতালে’ শেয়ার রয়েছে পরিচালক নাসির উদ্দীনের। সেখানে রোগীও দেখেন তিনি।

সরকারি চিকিৎসক হয়ে কীভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালক হলেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমি বার্ন ইউনিট ছাড়া কোনো হাসপাতালের পরিচালক না। এখন সামনে রোগী আছে পরে কথা বলবো।’

অভিযোগ রয়েছে- তিনি নিয়মিত ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের রোগীদের নানান প্রলোভন দেখিয়ে প্রগতি সরণির ‘এএমজেড’ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমি ২১ তারিখ (জুলাই) পর্যন্ত ব্যস্ত থাকব, পরে অফিসে আসুন কথা বলবো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেন্ডার-বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারী নিয়োগ, হাসপাতালে বেশিরভাগ ওষুধের ঘাটতি, বেশি দামে নিম্নমানের অপারেশন সরঞ্জাম ক্রয়, চিকিৎসক, অধ্যাপক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন- এসব এখন ইনস্টিটিউটের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

পরিচালকের এই স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়ম ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও ভয়ে কথা বলেন না কর্মরতরা। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন।

জানা গেছে, পরিচালক নাসির উদ্দীনের চাকরিবিধি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও তার প্রশ্রয়ে দীপুর দাপটের বিষয়ে হাসপাতালের ১৫ জন চিকিৎসক একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে। তবে অভিযোগের তদন্তই শুরু হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওই ইনস্টিটিউট থেকে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান নাসির উদ্দিন। তিনি বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বরং তার ওঠাবসা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারঘনিষ্ট স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ‘স্বাচিপ’র নেতাকর্মীর সঙ্গে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতার অসংখ্য ছবি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে। সে সময়ে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলেন। দুবার বিশেষ সুবিধার আওতায় রেগুলার পদোন্নতির আগেই চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের কন্যাকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে অল্প সময়ের জন্য ফরিদপুর ছাড়া তাকে কখনো ঢাকার বাইরে বদলি হতে হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে পরিচালক নাসির উদ্দিন সবসময় প্রভাব খাটিয়ে এসেছেন। পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন স্বাচিপ-ঘনিষ্ঠ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রভাব দেখাতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেখিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারীর প্রভাব।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করেই তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করে থাকেন।

প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বলছে, সম্প্রতি বার্ন ইনস্টিটিউটে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন কেনা হয়েছে। প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অথচ বাজারে এই মেশিনের প্রকৃত দাম মাত্র ৬৫ লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। ওয়েবসাইটে এই মেশিনের দাম দেওয়া আছে ৩০ লাখ টাকা।

বার্নের একজন চিকিৎসক বলেছেন, ভ্যাট ট্যাক্স অন্য খরচ দিয়ে আরও যদি ৩৫ লাখ টাকা আসে তাতে দাড়ায় ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি দামে কেনা হয়েছে প্রতিটি মেশিন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টেন্ডারের অধিকাংশ পণ্যই বাজারদরের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে, কোনো কোনো পণ্য এমনকি ছয়-সাত গুণ বেশি দামেও। দরপত্রে এমন কিছু পণ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো আদতে বার্ন রোগীদের কোনো কাজেই লাগে না। যদিও শেষ পর্যন্ত সেসব পণ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ আছে যে, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতেই এমন কৌশল নেওয়া হয়। এমনকি বার্ন ইনস্টিটিউটের দরপত্রের তালিকায় জায়গা পেয়েছে গাইনি বিভাগের পণ্যও। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পরিচালক নিজের ইচ্ছামতোই এসব সিদ্ধান্ত নেন। এতে তিনি অন্য কারো কথা শোনেন না।

এদিকে, দরপত্রের নথিতেও দেখা গেছে অসংগতি। আরগোটামিন নামের একটি পণ্যের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১১ হাজার পিস, আর বাটারফ্লাই নিডেলের চাহিদা ১ লাখ ৬০ হাজার পিস।

অথচ বার্নের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগোটামিন মূলত গাইনি বিভাগের ওষুধ, সিজারিয়ানের পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়, বার্ন চিকিৎসায় এর কোনো প্রয়োজনই নেই। বাটারফ্লাই নিডেলের দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত চাহিদা। ৫ হাজারের মতো লাগে। অথচ, চাহিদা দেওয়া হয় ১ লাখ ৬০ হাজার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, সাপ্তাহিক মিটিংয়ে এসব বিষয়ে নিয়ে কয়েকজন আপত্তি জানালে পরিচালক বলেন, ‘তোমরা বোঝো না, এগুলো দিতে হয়’।

এসব বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রাশেদ রাব্বি বলেন, এটা বড় রকমের দুর্নীতি। আপনি যা কিনবেন না, তা দরপত্রে দিতে পারবেন না। মূলত নির্দিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য স্পেসিফিকেশনে এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পণ্য না পেয়েও বিল পরিশোধের ঘটনা ঘটেছে এই ইনস্টিটিউটে। ৪০ কোটি টাকার মালামাল দেওয়ার জন্য যে প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র দেওয়া হয়, সেই প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে মাত্র ১৭ কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করে। অর্থবছর শেষে টাকা যাতে ফেরত না যায়, সেজন্য ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পন্য না পেয়েও ২৩ কোটি টাকা বিল দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর সেই প্রতিষ্ঠান আরও ১০ কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করে। এখন পর্যন্ত ১৩ কোটি টাকার পণ্য পাওয়া যায়নি। তারা কেবল প্রতিশ্রুতিতেই কাটাচ্ছে দিনের পর দিন। এই পণ্য আদৌ হাসপাতালে পৌঁছাবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দরপত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও সব পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, আর ভুগছেন রোগীরা।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিচালক নিজেও জানেন তার দুর্নীতি একদিন অডিটে ধরা পড়বে। তাই অডিট আপত্তি মেটানোর জন্য তিনি আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রেখেছেন। আর সেই হিসাব মাথায় রেখেই চালাচ্ছেন লুটপাট। হাসপাতালটিকে তিনি কার্যত পরিণত করেছেন দুর্নীতির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে।

২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, আউটসোর্সিংয়ের নামে ড্রাইভার পদে নিয়োগ পাওয়া দুইজন আসলে পরিচালকের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেন। তাদের মধ্যে একজন দীপু। তারা হাসপাতালের নিয়োগ, কেনাকাটা ও কর্মচারী নিয়ন্ত্রণসহ সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিচালকের হস্তক্ষেপের কারণে আরএফকিউ, সরাসরি ক্রয়, অনুদানের অর্থে ক্রয়সহ প্রায় সব ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়াই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এর আগে ই-জিপি সিস্টেমেও তার নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপের কারণে ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটি থেকে অনেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে হাসপাতালের ৩৭৩ নম্বর কক্ষটি পরিচালক ব্যক্তিগত স্মোকিং রুম (ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ) হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। অন্য চিকিৎসকরা এ বিষয়ে বিরত থাকতে অনুরোধ করলেও তিনি কানে তোলেননি।

তবে সপ্তাহ খানেক হলো এই রুমে তিনি স্মোকিং করেন না। কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন, তার ধুমপানের পার্টনার সপ্তাহজুড়ে ছিলেন না। সেজন্য হয়তো বন্ধ ছিলো। তিনি এলে আবার হয়তো শুরু করতে পারেন।

সূত্র জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই বার্নের কাজ দেওয়া হয়। অন্তবর্তী সরকারের সময় এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাসির উদ্দীনকে পরিচালক পদে বসানোর জন্য ইনভেস্ট করেন। সেই প্রতিষ্ঠানকেও তিনি কাজ দেওয়ার জন্য সব রকমের কৌশল অবলম্বন করেন। তার পিএস টু হিসেবে পরিচিত দীপুকে কাজের জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েও কাজ পায়নি এমন নজিরও আছে। টাকা ফেরত দিতেও বিভিন্ন তালবাহানা করছেন তিনি।

শুধু কাজের বেলায় নয়; আউট সোর্সিং নিয়োগের বেলায়ও অগ্রিম টাকা দিয়েও কারো কারো চাকরি হয়নি। কিন্তু তারা ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন চিকিৎসক জানান, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন- কিন্তু কে কী দিয়েছে আর তা কীভাবে কোথায় ব্যবহার হয়েছে, হিসাব নেই। এই তথ্য শুধু পরিচালকই জানেন। এ নিয়ে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক তার দিকে আঙুল তুলেছেন।

এমনকি একটি ব্যাংক থেকে বিনামূল্যে পাওয়া কোটি টাকার ওষুধও ক্রয় হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। একটি নির্দিষ্ট ব্যাংককে এই সুবিধা দেওয়ায় অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান।

অভিযোগ অনুযায়ী, দীপুর কথামতো না চললে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি হারানোর হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। বদলি কিংবা প্রতিহিংসার ভয়ে তাই কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না।

একজন সহযোগী অধ্যাপক বলেন, দীপু সরকারের কোনো বৈধ কর্মচারী নন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও নিযুক্ত নন, এবং সরকারি বেতন-ভাতা নেন বলেও প্রমাণ নেই।

আউটসোর্সিং স্টাফদের বিবরণীতেও তার নিয়োগের কোনো উল্লেখ নেই। তারপরও একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সরকারি অর্থে তাকে নির্দিষ্ট কর্মস্থল, ডেস্ক ও কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই জনগণের অর্থের অপব্যবহার।

বার্নের বিগত কোনো পরিচালকের পিএ কখনো সরকারি খরচে এ সকল সুবিধা পাননি।

ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৬ জুন জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনে ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়োগবিধিবহির্ভূত কিছু পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পিএসসির বাধ্যতামূলক পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা আছে। দীপুর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ার কিছুই অনুসরণ করা হয়নি, ফলে তার উপস্থিতি উক্ত প্রজ্ঞাপন ও সরকারি চাকুরির মৌলিক নীতিমালা সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। এনআইবিপিএসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সরকারি ও আন্তর্জাতিক বৈঠকে মো. তোফায়েল আহমেদকে নিয়মিতভাবে দেওয়া হয় অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক প্রটোকল সুবিধা। বিদেশি অতিথি, আন্তর্জাতিক চিকিৎসক এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সামনেও তাকে উপস্থাপন করা হয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে, এমনকি এসংক্রান্ত ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

অভিযোগকারীরা জানান, পরিচালকের কার্যালয়ের প্রবেশমুখে তোফায়েল আহমেদের অবস্থান ও আচরণ এমন, যেন তিনি পরিচালকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী কিংবা ক্ষমতার প্রতিনিধি। একটি সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও মর্যাদার সঙ্গে এই আচরণ পুরোপুরি বেমানান। প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তার এই কর্তৃত্বমূলক ও ভীতিজনক আচরণে ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালকের সরাসরি প্রশ্রয় রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষে পরিচালক নাসির উদ্দীন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বার্নের একটি কনফারেন্সে যান একটি কোম্পানির টাকায়। তখন তিনি বার্ন ইন্সিটিটিউটের পাশের ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরাতন বার্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তার বিমান ভাড়া, রেজিস্ট্রেশন, ৫ তারকা হোটেলে থাকাসহ যাবতীয় খরচ বহন করে ওই কোম্পানি। তাদের আমদানিকৃত ফ্লামিনাল নামক একটি জেল/অয়েন্টম্যান্ট পোড়া ও ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বার্ন চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অনেকে জানিয়েছেন এটা এদেশের গরম ও আর্দ্রতার কারণে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। কিন্তু তিনি অপ্রয়োজনীয় এই ওষুধ মাইলস্টোন দুর্ঘটনার সময় অযাচিত চাপ প্রয়োগ করে ব্যব্যবহার করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তিনি বিপুল পরিমাণে ক্রয় করেন। তাছাড়া তিনি টেন্ডারে এটি যোগ করেন। লিভিসিকা নামক দাগ কমানোর একটি অয়েন্টম্যান্ট তিনি একই পদ্ধতিতে সবাইকে লিখতে বাধ্য করেন এবং হাসপাতালে ক্রয় করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি তিনি এসকল কোম্পানির শেয়ার গ্রহণ করেছেন। তিনিসহ তার এইসকল অপকর্মের দোসর তিন-চারজন চিকিৎসকদের নিয়ে বিগত একবছরে নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পরিবারসহ ভ্রমণ করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তার অনুসারী তিন-চারজন চিকিৎসক যেকোন প্রশিক্ষণ, বিদেশ ভ্রমণ, কমিটি, হাসপাতাল ক্রয় প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা একচেটিয়া ভোগ করেন। হাসপাতালের যেকোনও সিদ্ধান্ত তাদের দ্বারা প্রভাবিত। তিনি তাদের হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মন্ত্রনালয়কে প্রভাবিত করে পদায়ন করেছেন। তাদের অনেকে সরকারি অর্ডার (জিও) নেপাল গমনের জন্য প্রাপ্ত হলেও পরিবারসহ নেপাল হতে মালদ্বীপে গমন করেন কোনরকম সরকারি আদেশ ছাড়া।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, তাদের পাসপোর্টের ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য বা ইমিগ্রেশন তথ্য যাচাই করলে সত্যতা পাওয়া যাবে। যা সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন। তাছাড়া প্রশ্ন উঠেছে এতো অর্থের উৎস কোথায়?

সম্প্রতি নানা অনিয়ম উল্লেখ করে ৫টি দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবারও লিখিত অভিযোগ করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটে কর্মরতরা।

দাবি গুলো হচ্ছে- মো. দীপুর উপস্থিতি, দায়িত্ব ও সরকারি সম্পদ ব্যবহারের বৈধতা বিষয়ে অবিলম্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত; দীপুর নিয়োগ কে অনুমোদন করেছে, তার কার্যক্রমের অর্থায়ন কোথা থেকে হচ্ছে এবং পদটি কখনো পিএসসি বা অন্য কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করেছে কি না-এসব বিষয়ে তদন্ত; পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে অবৈধ পদ সৃষ্টি, ক্রয়কার্যে অবৈধ মধ্যস্থতাকারী ব্যবহারের অভিযোগ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা গ্রহণ; মো. তোফায়েল আহমেদের সংশ্লিষ্টতার সময়কালে এনআইবিপিএসের সকল ক্রয় কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা পরিচালনা এবং কোনো আর্থিক অনিয়ম বা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অর্থ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী সকলের নিরাপত্তা ও চাকরিগত সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।

বলা হয়েছে, অনেকেই তথ্য দিতে প্রস্তুত থাকলেও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কায় এগিয়ে আসতে পারছেন না।

ভিওডি বাংলা/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রাজধানীর জলাবদ্ধতা
রাজধানীর জলাবদ্ধতা দায় কি শুধু সিটি করপোরেশনের, নাকি নগরবাসীরও?
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের নেতৃত্বে নৌপরিবহন খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন
মন্ত্রীদের ১০০ দিন রবি-রাজিবের নেতৃত্বে নৌপরিবহন খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন
ছবি: ভিওডি বাংলা গ্রাফিক্স
জুলাই শহীদ দিবস: একটি নাম, একটি ইতিহাস