প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চিকিৎসা পাচ্ছেন ৩ বস্তির মানুষ
রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করেছে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, এমনকি জটিল রোগের চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে বিনা খরচে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য শুধু বহির্বিভাগ নয়, আধুনিক আইসিইউ সুবিধা, বিশেষায়িত বিভাগ এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তিনটি বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার ও পুরুষ-মহিলার পৃথক ওয়ার্ডও চালু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও সহজে সেবা পাওয়া যায়।
কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান জানান, হাসপাতাল উদ্বোধনের পর গত প্রায় আড়াই মাসে বহির্বিভাগে ৬১০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এ সময় ২৩ জনকে বিভিন্ন জটিল রোগে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও তিনজনের অপারেশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে করা হবে।
তিনি বলেন, রাজধানীর এই তিন বস্তির মানুষকে মাত্র ১০ টাকার একটি টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এরপর চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
গত ৫ মে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই অনুষ্ঠানে প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন এবং গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারেরও উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে তিনি রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালুর ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বস্তিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু সাধারণ রোগ নয়, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ জটিল অসুস্থতার চিকিৎসাও বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে বস্তিবাসীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভাষ্য, আগে অর্থের অভাবে বড় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা আমেনা বেগম জানান, কয়েক মাস আগে এক চোখের ছানি অপারেশনের জন্য তাকে প্রায় ছয় হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল। বর্তমানে অপর চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলেও এবার কোনো অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না। তার ভাষায়, সরকারের এই উদ্যোগ তাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। শুধু চিকিৎসাই নয়, হাসপাতালে রোগীদের সম্মানজনক পরিবেশে রাখা হচ্ছে এবং উন্নতমানের খাবারও দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে তিনটি বস্তিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা একটি সমিতির মাধ্যমে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রোগীদের জন্য আলাদা কাউন্টারে দ্রুত নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীর সঙ্গে স্বজন না থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরাই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকেন।
হাসপাতাল পরিচালক বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার নাগালের মধ্যে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের জন্য চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য