ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীকে অপহরণ করে চোখ-মুখ বেঁধে আড়াই লাখ টাকার বেশি অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের একটি ডাকাত চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সাঈদ আল হাসান শাকিল (২৯), মো. সবুজ ওরফে সাগর (৩০), মো. জুয়েল হাওলাদার ওরফে জাহিদুল (৩৫) এবং মো. মোশারফ আলী (৩৫)। তাদের বাড়ি জামালপুর ও পটুয়াখালী জেলায়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর সদর, গাছা ও বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের নোয়াহ মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ খান (২৫) ও তার প্রতিবেশী সিয়াম খন্দকার ব্যবসায়িক কাজে সাভারে যাওয়ার জন্য কালামপুর বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজের পাশে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন।
এ সময় একটি সাদা রঙের নোয়াহ মাইক্রোবাস এসে থামে। সেখান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক ফাহাদ ও সিয়ামকে গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িতে ওঠানোর পরই তাদের চোখ ও মুখ কসটেপ দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে মাইক্রোবাসটি মানিকগঞ্জের দিকে রওনা দেয়।
পথিমধ্যে অপহরণকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ২১০ টাকা এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
টাকা লুটের পর রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জ থানার পুখুরিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে স্টোন ব্রিকস লিমিটেডের সামনে চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় দুই ভুক্তভোগীকে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ খান বাদী হয়ে ধামরাই থানায় দস্যুতা আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে ওসি নাজমুল হুদার নেতৃত্বে এসআই এস এম কাওছার সুলতান, এসআই জুলফিকার আলীসহ পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, "গ্রেপ্তাররা মহাসড়ককেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে সর্বস্ব লুটে আসছিল। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।"
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য