• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
শাপলা চত্বরের অভিযান ছিল পূর্বপরিকল্পিত: চিফ প্রসিকিউটর সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত সংস্থায় যাচ্ছে ট্রাইব্যুনালের নথি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে উগ্রবাদের আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ নেই: সিটিটিসি প্রধান নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ফ্রান্স ও জার্মানির কূটনীতিকদের বৈঠক রুনা লায়লার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি: মনির খান সীমান্তে গোলাগুলি, বিজিবির পাল্টা প্রতিরোধে পিছু হটল সশস্ত্র চোরাকারবারিরা ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও পত্র, আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ সরকারের ভালো উদ্যোগগুলো মানুষকে জানান: প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ছাড়া নতুন বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করল ছাত্রদল, শিবিরের বাধা


প্রকাশ:  ১৯ মে ২০২৫, ১১:৪৬ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটকের জেরে পাল্টাপাল্টি মিছিল করেছে ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবির।

রবিবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দুই দল মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে এ পাল্টাপাল্টি মিছিল করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার কবির সোহান ভাইভা দিয়ে বের হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ফসিউল হক ইমনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রক্টর অফিসে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রক্টর অফিসে আসেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের বর্তমান সহ-সভাপতি ফসিউল হক ইমনকে ২০২২ সালে ছাত্রলীগ মারধর করেছে। ওই ঘটনায় শাহরিয়ার কবির সোহান জড়িত ছিলেন এবং তিনি মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এরপর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশ ডেকে সোহানকে পুলিশে দেওয়ার কথা বলেন। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রক্টরকে বলেন, ও ছাত্রলীগ করেছে এমন প্রমাণ থাকলে পুলিশে দিলে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেওয়া যাবে না। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

এরপর প্রক্টর বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে রুম থেকে বের করে দেন। প্রক্টর অফিসের বাইরে এসে দুই পক্ষ দুই দফায় বাগবিতণ্ডায় জড়ান।

এরপর দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর-বাইরে লোক জড়ো হতে শুরু করে। সন্ধ্যায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে চলে যান। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরিদা টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আসলে শিবির সেখান মিছিল শুরু করে।

এরপর ছাত্রদলের মিছিলটি ক্যালিকো কটন মিল থেকে ঘুরে আবার প্রধান ফটকের দিকে আসতে শুরু করলে শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ক্যালিকো কটন মিলের দিকে মিছিল বের করে। মিছিল দুটি পরস্পরকে অতিক্রম করার সময় দুই দলের নেতাকর্মীরা পরস্পরের মুখোমুখি হন এবং মিছিলের মধ্যে পুনরায় বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন। এরপর ছাত্রদল মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এ মিছিলের কিছুক্ষণ পর ছাত্রশিবির ক্যালিকো কটন মিলের দিক থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পাবনা শহর শিবিরের সভাপতি ফিরোজ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান জয় বক্তব্য দেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুই দলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ছেড়ে চলে যান।

ছাত্রদলের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী শাহরিয়ার কবির সোহানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মী রিফাত এসে তাদেরকে বাধা দেয় এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন। রিফাতের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী শাহরিয়ার কবির সোহান এবং রিফাত পাশাপাশি থাকেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহরিয়ার কবির সোহানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় রিফাত দেখতে পান এবং জিজ্ঞেস করেন, কেন ওকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রিফাতকে ধাক্কা দেন এবং তাকে তারা মারতে যান। রিফাতকে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে জানাজানি হলে উত্তেজনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তিন গাড়ি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, আটক শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। এখন বাকি ব্যবস্থা পুলিশ নেবে। আর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। আশা করি দুই পক্ষই সহ-অবস্থানে থাকবেন। যেহেতু ক্যাম্পাসের মধ্যে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তাই দুই দলকেই অনুরোধ করব রাজনৈতিক বিষয়ে কোন ঝামেলায় না যাওয়ার জন্য।

ভিওডি বাংলা/ডিআর

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিতে ঢাবির হলে জলাবদ্ধতা, দুই ছাত্রী হলে বিদ্যুৎ নেই
ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এখন ছাত্রদলের শীর্ষ পদে
ফাইল ছবি
বেরোবিতে হয়নি সমাবর্তন, টাকা ফেরত পেলেন শিক্ষার্থীরা