• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মার্কিন হামলার পর ৩ দেশে পাল্টা আঘাত ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং দেশটির সেনাবাহিনী। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানে নতুন দফার হামলা শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরান জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল এবং নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে দুটি জাহাজ আটক করার চেষ্টা করা হয়। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। অভিযানে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, একমুখী আক্রমণকারী আকাশযান ও সমুদ্র ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং দ্রুতগতির নৌযানের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসি জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় জ্বালানি ডিপো, গোলাবারুদের গুদাম, হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি সামুদ্রিক টহল বিমানের হ্যাঙ্গার এবং সামরিক ড্রোনের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এ ছাড়া কুয়েতের আলি সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীও অভিযানে অংশ নিয়ে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী মার্কিন হামলাকে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে রক্ষায় তারা পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুভাবাপন্ন আকাশযান ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। কুয়েতে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ফল বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন বাহিনীর সর্বশেষ হামলা শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে ইরানের হরমুজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এলাকায় অন্তত দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংককের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৭
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে পানি পাম্পিং স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, হতাহত ৫
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম