• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

মসজিদের ভেতরেই সংঘর্ষ

এমপির ইমামতি নিয়ে জামায়াত-বিএনপির উত্তেজনা

  পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার একটি মসজিদে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের জুমার নামাজে ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হননি। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজ শুরুর ঠিক আগে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবারও ওই মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করতে চেয়েছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তবে বিএনপি সমর্থকদের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে শুক্রবার তিনি আবারও নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় উপস্থিত বিএনপি সমর্থকরা আপত্তি জানান।

এ সময় মসজিদের ভেতরেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আগে থেকেই মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম দাবি করেন, দলীয় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে গত শুক্রবারও সংসদ সদস্য মোমেন ইমামতি করতে চেয়েছিলেন, তবে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে তা সম্ভব হয়নি। শুক্রবারও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মসজিদে এসে ইমামের কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন। পরে নিজেই খুতবা ও নামাজ পরিচালনার ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি জানায়। এ সময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নির্ধারিত ইমামকে দিয়েই নামাজ আদায় করায়।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তিনি ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি; স্থানীয় মুসল্লিদের অনুরোধেই মসজিদে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবারও স্থানীয়দের অনুরোধ থাকলেও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কারণে যাননি। পরে কোনো সমস্যা হবে না—এমন আশ্বাস পেয়ে শুক্রবার সেখানে যান। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি নেতা আব্দুল করিম, সেক্রেটারি সিরাজসহ বাইরের এলাকা থেকে লোক এনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে তাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। নামাজের পর তাদের এক কর্মীর দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যের ইমামতি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে—এমন তথ্য আগেই পুলিশের কাছে ছিল। তাই আগে থেকেই মসজিদে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপরও নামাজের আগে মসজিদের ভেতরে কথা-কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারধর বা গুরুতর আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বাকৃবিতে জাইকার অর্থায়নে ‘উদ্ভিদ পুষ্টি গবেষণাগার’ উদ্বোধন
ছবি: ভিওডি বাংলা
‘শেষমেশ বাড়িভিটাটাও তিস্তায় গেল, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই’
ছবি: ভিওডি বাংলা
মানিকগঞ্জ সদর থানায় অগুন