আধুনিক প্যাকিং ইউনিটে বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের

বাংলাদেশের কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে চালু হলো আধুনিক হাইজিনিক প্যাকিং ও ট্রিটমেন্ট সুবিধাসম্পন্ন নতুন ইউনিট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে আমসহ বিভিন্ন ফল ও সবজির রপ্তানিতে তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা, বাড়বে কৃষকের আয়ও।
সোমবার ভ্যাপার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ভিএইচটি) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন-উর রশীদ এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে হাইজিনিক প্যাকিং ও ট্রিটমেন্ট সুবিধাসম্পন্ন একটি আধুনিক প্যাকিং ইউনিট উদ্বোধনের মাধ্যমে নতুনভাবে ফল রপ্তানির দ্বার উন্মোচন হলো। আন্তর্জাতিক মানের এই ব্যবস্থা চালুর ফলে আমসহ বিভিন্ন ফল ও সবজির রপ্তানি বাড়বে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।”
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এই প্ল্যান্টে আধুনিক প্যাকিং ও ট্রিটমেন্ট সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আম, লিচু, কাঁঠাল, বরই, পেঁপে, টমেটো ও আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিযোগ্য করে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
আমিন-উর রশীদ বলেন, “বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। উৎপাদন বাড়লেও দেশের বাজারে চাহিদার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। এ অবস্থায় রপ্তানি বাড়ানোই হতে পারে কৃষকের আয় বৃদ্ধির অন্যতম পথ। আর সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের প্যাকিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, নতুন ট্রিটমেন্ট ও প্যাকিং ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্যের সঙ্গে ক্ষতিকর পোকামাকড় বা জীবাণু বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে। এতে আমদানিকারক দেশগুলোর আস্থা বাড়বে এবং নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের আমের প্রতি জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি কাঁঠালসহ অন্যান্য ফলের আন্তর্জাতিক চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন প্যাকিং সুবিধা এসব বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রপ্তানিকারকদের সুবিধার জন্য প্যাকিং ইউনিটেই কোয়ারেন্টাইন সেবা চালুর ঘোষণাও দেন তিনি। এর ফলে একই স্থানে পণ্য ধোয়া, প্যাকিং এবং কোয়ারেন্টাইন সনদ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে সময় ও ব্যয় কমবে এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশজুড়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে আমিন-উর রশীদ বলেন, এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সারা বছর ভোক্তাদের কাছে তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং ক্রেতার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করা জরুরি।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্যাকিং, ট্রিটমেন্ট, কোয়ারেন্টাইন ও সংরক্ষণব্যবস্থার সমন্বয়ে দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি নতুন গতি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষি আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য