পদত্যাগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে অতঃপর মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পদত্যাগের প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেখতে পাবেন।’ প্রশ্নটা বিব্রতকর বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি।
বর্তমানে স্পিকার দেশের বাইরে অবস্থান করছেন জানালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, 'আমার জানা নেই স্পিকার দেশে আছেন কিনা। এটা আমার জানার কথা না।'
লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না, জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারও যদি মাথা খারাপ হয়, সে এ ধরনের কথা বলতে পারে।'
'আমি তখন মৃতপ্রায়, চিকিৎসাধীন ছিলাম। এটা একেবারে ভিত্তিহীন ও বানানো কথা, এটাই বলতে পারি,' বলেন তিনি।
এর আগে, সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়।
সূত্রের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি টেলিফোনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন।
সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতি ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি।
তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপই কারণ নয়, বিষয়টা ‘আরও জটিল’।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে বা স্বাস্থ্যগত কারণে যেকোনো কারণে চাইলে তার সেই অপশন আছে।'
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'তিনি (রাষ্ট্রপতি) চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো আলাপ করেছেন কি না, আমি জানি না।'
'রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে হোক যে কারণে হোক, পদত্যাগ করতে চাইলে করতে পারেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। পদত্যাগ করতে চাইলে সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দিতে হয়। এইটুকু নিয়ম আছে জানি,' বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য