অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ সন্তানের জন্ম, মৃত্যু চার

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক গৃহবধূ একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সন্তান জন্ম হওয়ায় পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজন মারা গেছে। বর্তমানে একটি ছেলে শিশু হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে বিকেলে প্রসববেদনা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ২২ বছর বয়সী চাঁদনী বেগম।
তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া-শহীদনগর ইউনিয়নের বড় কাজুলী গ্রামের বাসিন্দা। বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই তিনি পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুজন মেয়ে ছিল।
স্বজনরা জানান, দেড় বছর আগে মাহামুদুল হাসান ডলারের সঙ্গে চাঁদনী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর সন্তানসম্ভবা হন তিনি। পরে পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, তার গর্ভে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হলেও চিকিৎসকরা শুরু থেকেই ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নার্সরা জানান, গর্ভের বয়স তখনও সাত মাস পূর্ণ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সাড়ে ছয় মাসের কিছু বেশি সময় পার হয়েছিল। এ অবস্থায় হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমেই একে একে পাঁচ নবজাতকের জন্ম হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের প্রত্যেকের ওজন ছিল মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে। এত কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট’ হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের শিশুদের বেঁচে থাকার জন্য বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে দায়িত্বরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, জন্মের পর প্রথমে পাঁচ শিশুই জীবিত ছিল। কিন্তু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস ও শারীরিক জটিলতা দ্রুত বাড়তে থাকে। হাসপাতালের সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পারিবারিক ও আর্থিক কারণে স্বজনরা শিশুদের অন্যত্র নিতে রাজি হননি।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একে একে চার নবজাতকের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ একটি ছেলে শিশু শুক্রবার ভোরে মারা যায়। বর্তমানে জীবিত থাকা অপর ছেলে শিশুটিকে অক্সিজেন সাপোর্টে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নবজাতক বিভাগের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ফুসফুস পুরোপুরি বিকশিত হয় না। পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। ফলে এমন শিশুদের চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য