বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্বাভাবিক হচ্ছে

ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়ায়।
রোববার ওপেক প্লাস আগস্ট থেকে দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে অনেক সদস্য দেশ এখনো নির্ধারিত কোটার পুরোটা উৎপাদন করতে পারছে না।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের তেল রপ্তানি আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ছে।
রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, জুনে ওপেকের মোট তেল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১ কোটি ৯৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিও মে মাসের তুলনায় দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়ে ১ কোটিরও বেশি ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। তবে এটি এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
এ ছাড়া ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুনে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং জুলাইয়েও একই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/আরআই/এমএস








মন্তব্য