তারুণ্যের উদ্যমে বদলে যাচ্ছে সাভারের কৃষিচিত্র

তারুণ্যের উদ্যমে বদলে যাচ্ছে সাভারের কৃষিচিত্র
সাভারের চরাঞ্চলে নদীর পানি প্রতিবছর ভাসিয়ে নিয়ে যায় কৃষকের সারা মৌসুমের পরিশ্রম। কিন্তু এবার সেই ঝুঁকিপূর্ণ চরেই ১২টি প্রদর্শনী প্লটের মধ্যে ১০ প্রজাতির ধান সফলভাবে চাষ হচ্ছে। বন্যা-সহনশীল ও জিংক সমৃদ্ধ 'ব্রি ধান-১০২' চাষ করেছেন তারা। যা কিছুদিন আগেও অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হতো।
এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের তরুণ নেতৃত্বাধীন Climate Action at Local Level (CALL) প্রকল্প, যা বাস্তবায়িত হচ্ছে GAIN-এর কারিগরি সহযোগিতা ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে।
ধানের প্লটের পাশাপাশি আশুলিয়ার নয়াপাড়া, সাধুপাড়া ও শেওলাটেকি গ্রামে বসতবাড়ির অব্যবহৃত জমিতে পুষ্টি বাগান গড়ে তুলেছেন অনেক পরিবার। যেখানে চাষ করতা হচ্ছে প্রায় ১৫ ধরনের মৌসুমি সবজি। কোনো প্রকার রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদ ব্যববহার করে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে পোকা মাকড়ের হাত থেকে। বাগানের সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন প্রতিবেশীরাও।
এই মাঠ আর বাগানের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন ১৬০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণী। যাদের অর্ধেক নারী। যারা সাভার ও গাজীপুর সদরে ১৬টি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জলবায়ু-সচেতন কৃষি ও পুষ্টির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৬০ জন যুব প্রতিনিধি TOT কর্মশালায় নিজেদের এলাকার জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। মার্চে কৃষিবিদ ড. মো. মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে GAIN-এর কারিগরি দল মাঠে গিয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে পরামর্শ দেন।
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, “তরুণদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, নেতা হিসেবে দেখলে কী হতে পারে এই মাঠগুলোই তার প্রমাণ। বন্যা থেকে ফসল বাঁচানো একজন কৃষক, ঘরের পাশে পনেরো রকম সবজি ফলানো একজন মা এই গল্পগুলোই বলে দেয় আমাদের মডেল কাজ করছে।”
ভিওডি বাংলা/ বিন্দু








মন্তব্য