বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ নামটি উচ্চারিত হলেই সবার আগে যে মুখটি ভেসে ওঠে, তিনি উত্তম কুমার। যার প্রকৃত নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতার আজ প্রয়াণ দিবস। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
উত্তম কুমারের বাবা ছিলেন সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মা চপলা দেবী। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছিল তাকে। জীবনের কঠিন বাস্তবতা সামলাতে ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরি নেন। সে সময় তার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ২৭৫ টাকা। তবে চাকরির পাশাপাশি অভিনয়ের স্বপ্নকে কখনোই বিসর্জন দেননি। থিয়েটারে নিয়মিত অভিনয় করতেন এবং চলচ্চিত্রে সুযোগ পাওয়ার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যান।
১৯৪৭ সালে এক বন্ধুর সহযোগিতায় ‘মায়াডোর’ নামের একটি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। পাঁচ দিনের কাজের জন্য প্রতিদিন পাঁচ সিকি করে পারিশ্রমিক পেলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছবিটি আর মুক্তি পায়নি। এরপর তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দৃষ্টিদান’, যেখানে তিনি অভিনয় করেছিলেন নিজের আসল নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় পরিচয়ে। তবে ছবিটি দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি।
পরবর্তী সময়ে ‘কামনা’ ছবিতে অভিনয়ের সময় তিনি নাম পরিবর্তন করে রাখেন উত্তম চ্যাটার্জি। এরপর আবার নাম বদলে অরূপ কুমার নামে অভিনয় করেন ‘নষ্টনীড় সহ আরও কয়েকটি ছবিতে। কিন্তু একের পর এক ব্যর্থতা তাকে হতাশ করলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি কখনো সরে দাঁড়াননি। বারবার ব্যর্থ হওয়ায় অনেকের হাসি-ঠাট্টারও শিকার হতে হয়েছিল তাকে।
অবশেষে ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক। বিশেষ করে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তার জুটি বাংলা চলচ্চিত্রে সৃষ্টি করে এক অনন্য ইতিহাস। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘শিল্পী’ সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অর্জন করেন ‘মহানায়ক’-এর সম্মান।
১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই এই কিংবদন্তির জীবনাবসান হলেও বাংলা চলচ্চিত্রে তার অবদান, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং অনন্য ব্যক্তিত্ব আজও সমানভাবে অনুপ্রেরণার উৎস। সময়ের সীমানা পেরিয়ে উত্তম কুমার আজও বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক।
ভিওডি বাংলা/তা









মন্তব্য