রাজধানীতে ভিওডি বাংলার সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে হত্যার হুমকি

রাজধানীর পূর্ব রামপুরায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ভিওডি বাংলা’র সিনিয়র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জয় খ্রীষ্টফার বিশ্বাস, মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম এবং ক্যামেরাপারসন শাওন। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রেখে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় পূর্ব রামপুরার টিভি-লিংক রোডের ২৪৮/৬/১ নম্বর ‘মমতাজ ভিলা’য় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ক্যামেরা থেকে জোরপূর্বক ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করা হয় এবং সিনিয়র রিপোর্টার মুজাহিদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জয় ও মুজাহিদ জানান, পূর্ব রামপুরার টিভি-লিংক রোডের ‘মমতাজ ভিলা’র ভাড়াটিয়া সোনিয়া নামে এক নারীর সাথে বাড়ির মালিকের এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই ভবনে যান তারা। ভবনের সামনে পৌঁছালে মালিকপক্ষের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি অত্যন্ত উগ্রভাবে এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের সেখানে যাওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় ভিওডি বাংলার সাংবাদিকরা বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি বাধা সৃষ্টি করেন।
পরবর্তীতে ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে এক নারী বেরিয়ে এসে জানান, ভেতরে দারোয়ান আছেন। এরপর সাংবাদিকরা বাড়ির মেইন গেটে নক করলে একজন বয়স্ক দারোয়ান এগিয়ে আসেন। প্রতিবেদক জয় খ্রীষ্টফার বিশ্বাস পূর্বের ঘটনা প্রসঙ্গে দারোয়ানের বক্তব্য ধারণ করা শুরু করেন এবং বাড়ির মালিকের মুঠোফোন নম্বর চান। দারোয়ান নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানানোর মাঝেই বাড়ির মালিক সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এসেই আকস্মিক ক্যামেরাপারসন শাওনের ওপর চড়াও হন এবং ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ক্যামেরাপারসন শাওন জানান, অভিযুক্তরা সেখানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত মব তৈরি করে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সিনিয়র রিপোর্টার মুজাহিদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনকে বেঁধে রেখে গণধোলাই দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সাথে হামলাকারীরা বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে দলবল জড়ো করে পুরো রাস্তা অবরুদ্ধ করে ফেলে, যেন সাংবাদিকরা সেখান থেকে বের হতে না পারেন।
এ সময় লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি এসে সাংবাদিকদের একটি সচল মুঠোফোন ধরিয়ে দেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একজন ব্যক্তি নিজেকে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ হিরণ খান বলে পরিচয় দেন। যদিও ওই ফোনে নম্বরটি ‘সুদিব’ নামে সংরক্ষিত ছিল। ফোনের ওপাশ থেকে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিকদের ধমকের সুরে ক্ষমা চাইতে বলেন এবং সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন ভিওডি বাংলার প্রতিবেদকরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক নির্যাতন, ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করা স্পষ্টত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর ভিওডি বাংলাকে বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে এর আগেও রামপুরা থানায় নারীদের হেনস্থা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভিওডি বাংলা/এফএ








মন্তব্য