• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ঋণের চাপ, পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যু

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দোহারে এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে চাপ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের মধ্যে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্বজনদের দাবি, এনজিওকর্মীদের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপেই তারা ভেঙে পড়েছিলেন। যদিও সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মারা যাওয়া দুজন হলেন দোহার উপজেলার খালপাড় এলাকার মৃত শেখ শহীদের স্ত্রী লাভলী আক্তার এবং তার মা রেহানা বেগম। লাভলী আক্তারের মৃত্যু হয় গত ২৪ জুন। এরপর সোমবার (২৯ জুন) রাতে মারা যান তার মা রেহানা বেগম।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে উপজেলার বটিয়া শাখার ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামে একটি এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন লাভলী আক্তার। ওই অর্থ দিয়ে তিনি তার ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। তবে ছেলে নিয়মিত টাকা পাঠাতে না পারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়েন তিনি।

স্বজনদের অভিযোগ, গত প্রায় ছয় মাস ধরে কিস্তির টাকা আদায়ে লাভলী আক্তারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন এনজিওর কর্মীরা। একপর্যায়ে মানসিক চাপে তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে নাগেরকান্দায় তার মায়ের বাড়িতে চলে যান। পরিবারের দাবি, সেখানেও এনজিওর এক কর্মকর্তা তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন লাভলী। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে লাভলীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর আবারও ঋণের বিষয়ে কথা বলতে এনজিওকর্মীরা রেহানা বেগমের বাড়িতে যান বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

রেহানা বেগমের ছেলে ও লাভলীর ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মা ঋণের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তারপরও এনজিওর লোকজন তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মৃত্যু হয়। এর পাঁচ দিনের ব্যবধানে বোনের মৃত্যু হয়। আমি আমার মা ও বোনের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশনের বটিয়া শাখার ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘লাভলী আক্তার ছয় মাস আগে ঋণখেলাপি হন। টাকা আদায়ে চেষ্টা করা হলেও তাকে বা তার মাকে চাপ দেওয়া হয়নি। লাভলী মারা যাওয়ার পর ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়ার জন্য মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন আমাদের লোকজন।’

এ বিষয়ে দোহার সার্কেলের এএসপি শামীম হোসেন বলেন, ‘মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’ 

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানলে ইরানও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে: পেজেশকিয়ান
ছবি: সংগৃহীত
২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
সোহরাওয়ার্দী, হৃদরোগ ও নিটোরে র‌্যাবের অভিযান, আটক ১৩