প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলেই বড় উপকার

ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসও শরীর ও মনের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াক হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কমানো এবং ঘুমের মান উন্নত করতেও সহায়ক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের পরামর্শ দেয়। সে হিসেবে প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে পাঁচ দিন হাঁটলেও সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব।
১. হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক
নিয়মিত হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদ্যন্ত্র সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
হাঁটার সময় শরীর ক্যালরি খরচ করে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অতিরিক্ত ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. মানসিক চাপ কমায়
শরীরচর্চার সময় এন্ডোরফিনসহ কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটার ফলে মানসিক চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং উদ্বেগও হ্রাস পেতে পারে।
৪. ঘুমের মান উন্নত হতে পারে
দিনে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস অনেকের ক্ষেত্রে রাতে সহজে ঘুমাতে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত দ্রুত হাঁটা কিছু মানুষের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
৫. হাড় ও পেশি শক্ত রাখতে সাহায্য করে
হাঁটা একটি ওজন বহনকারী (Weight-bearing) ব্যায়াম। ফলে এটি হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং পেশিকে সক্রিয় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৬. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটা শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।
হাঁটার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।
২. হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৩. শুরুতে ধীরে হাঁটুন, পরে গতি বাড়ান।
৪. সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৫. কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করুন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
হাঁটার জন্য জিমের প্রয়োজন নেই। বাসার ছাদ, পার্ক, মাঠ বা আশপাশের রাস্তায় নিরাপদ পরিবেশে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট একটি অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্য উপকার বয়ে আনতে
পারে।
ভিওডি বাংলা/তা








মন্তব্য