• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
জুয়া প্রতিরোধসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া অনুমোদন পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয় বিডার ভরসা দেশি বিনিয়োগে ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, তুমুল বিতর্ক চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সদরঘাটে নৌ পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার মাদক প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ১২ হাজার কোটি টাকা বনদস্যুতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে: কোস্ট গার্ড ডিজি

কুড়িগ্রামে কলেজে নেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক, টাকা দিলেই মিলে সনদ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি    ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৩ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

এমপিও ভুক্ত কলেজে নেই শিক্ষার্থী, হাজিরা কলেজে না এসেও পাচ্ছেন বেতন। প্রতিবছর পরীক্ষার সময় ভাড়া করা শিক্ষার্থী দিয়ে চলে পরীক্ষা। টাকা হলেই মিলে সনদ। দিনের পর দিন অনিয়মে চললেও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের সাথে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু জানা নেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। 

অনুসন্ধান দেখা যায়, উপজেলার কিসমত উল্লাহ বালাজান কৃষি ও কারিগরি ইনস্টিটিউট কলেজটি ২০০৪ সালে স্থাপিত হয়ে ২০১৯ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসহ স্টাফ রয়েছে ১৭জন। তাদের মধ্যে ৭জন এমপিওভুক্ত হয়েছেন। প্রভাবশালী মহলের গঠিত কলেজের সাইনবোর্ড লেখা রয়েছে সাংবাদিক ফোরাম দ্বারা পরিচালিত।

নামমাত্র কলেজটি নিয়ন্ত্রণ করে বছরের পর বছর সনদ বিক্রি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে আমজাদ হোসেন কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। কলেজে আমজাদের ভাই ল্যাব এসিস্ট্যান্ট রফিকুল ইসলাম, চাচাতো ভাই বাবুল আহমেদ, সুরুজ্জামান, সুমন আহমেদ এবং আত্নীয় কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, নিয়মিত কলেজের আয়া শারমিন আকতার এসে শুধু কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া অফিসসহ শ্রেণী কক্ষ তালাবাদ্ধ। নেই ব্রেঞ্চ,নেই শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা। পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীর নাম, রোল, স্বাক্ষর না থাকলেও রয়েছে পরীক্ষকের স্বাক্ষর। এমপিও ভুক্ত কলেজের বেতন ভুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন থাকেন ঢাকা এবং নীলফামারী জেলায় নিজ বাড়িতে। শুধু পরীক্ষার সময় আসেন। এই কলেজের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট রফিকুল ইসলাম ঢাকা মিরপুরের সেওডাপাড়ায় চালু করেছেন এ্যাডভান্সড কেয়ার স্কিল ডেভলপমেন্ট ইন্সটিটিউট নামে একটি কোচিং সেন্টার। তিনি সেখানেই নিয়মিত থাকেন।শিক্ষার্থী না থাকায় অন্য শিক্ষক, কর্মচারীরাও অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতা ঠিক তুলছেন নিয়মিত। অধ্যক্ষের সকল দায়িত্ব পালন করেন কলেজের অফিস সহকারী আমজাদ হোসেন।তিনি কলেজের মাঠের মাটি কেটে নিয়ে নিজ বাড়িভিটে উঁচু করেছেন। এছাড়াও এই কলেজের নিয়োগসহভর্তি সবকিছু তিনি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। আমজাদের চাচাতো ভাই সুরুজ্জামান ২০২৪ সালে কলেজের অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে জন্ম গ্রহণ করেন ও ২০০২সালে এসএসসি পাস করেন এবং তার একটি এনআইডি কার্ড রয়েছে। তার স্ত্রী সন্তানও রয়েছে। অথচ কলেজে চাকুরীর জন্য তিনি তথ্য গোপন করে ১৯৯৬সালে জন্ম দেখিয়ে ২০২০সালে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে আবারও এসএসসি পাস করেন। আবারও নতুন ভোটার হয়ে আরও একটি এনআইডি কার্ড করেন।

নাম ও ছবি প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে ভর্তি না হয়েও ২০হাজার টাকার বিনিময়ে পেয়েছেন সনদ। কোন পরীক্ষা দিতে হয়নি। আর নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করে দেয়ার জন্য দু’লাখ টাকা নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজ সংলগ্ন এক বাসিন্দা বলেন,অফিস সহকারী আমজাদ হোসেন এলাকারই ছেলে। তার সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসনের লোকজনের সাথে সখ্যতা রয়েছে। কেউ মুখ খুললে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হয়।শুধু পরীক্ষার সময় পরীক্ষা হলেও বছরের বাকি সময় কলেজটি বন্ধ থাকে। সরকারি লোকজন আসে বহিরাগত ছেলে মেয়ের পরীক্ষা নিয়ে চলে যায়। আমজাদের ভাই ঢাকায় থাকেন। সেখানে কোচিং করিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করে। আবার কলেজের বেতন ভাতা নেয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তাদের তথ্য উঠে আসবে। কিন্তু সেটা কে করবে টাকা নিয়ে চুপ চাপ থাকবে প্রশাসন।

আয়া শারমিন আকতার বলেন, আমার শাশুড়ী টাকা এখানে আয়া পদে টাকা দিয়ে ঢুকেছিল।তবে আমার কোন টাকা লাগেনি।আমি এসে পতাকা তুলে চলে যাই।শুধু পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা আসে। 

ল্যাব এসিসটেন্ট রাজু মিয়া স্বীকার করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খাতা নেই। তবে কলেজের স্টাফরা নিয়মিত আসেন। 

সুরুজ্জামান বলেন,দুটো এনআইডি কার্ডের কথা অস্বীকার করে বলেন আমি ২০২০ সালে এসএসসি পাস করেছি। সেই সনদ দিয়ে ভোটার হয়েছি, চাকরি করার জন্য। 

তিনি ২০০২সালে এসএসসি পাস এবং ১৯৮৫ সালে জন্ম তারিখের বিষয় কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।  

কলেজের অনিয়মের কথা স্বীকার করলেও তথ্য উপাত্ত চাওয়া খেপে যান অফিস সহকারি আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন আপনাদের কি লেখার আছে লিখতে পারেন

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী জানান,পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর,নাম,রোল না থাকলেও রয়েছে পরিদর্শকের স্বাক্ষর। এই স্বাক্ষর তার নয় বলে দাবী করেন। তিনি বলেন,ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনঅভ্যন্তরিন পরীক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদার বলেন,এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার জানা নেই। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেন তিনি।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে সরকার
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে সরকার
নন্দিনী হত্যার বিচার নিশ্চিত হবে, আশ্বাস দিলেন ত্রাণমন্ত্রী
নন্দিনী হত্যার বিচার নিশ্চিত হবে, আশ্বাস দিলেন ত্রাণমন্ত্রী
পাহাড়তলীতে তালিকাভুক্ত মাদক মামলার আসামি রেজাউল গ্রেপ্তার
পাহাড়তলীতে তালিকাভুক্ত মাদক মামলার আসামি রেজাউল গ্রেপ্তার