• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আল জাজিরার প্রতিবেদন

গাজায় ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৯ পি.এম.
থার্মোবারিক অস্ত্র বা ‘ভ্যাকুয়াম বোমা’ ব্যবহারে ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনি মুহূর্তের মধ্যে বাষ্পীভূত হয়ে নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল নিষিদ্ধ ও মানবতাবিরোধী হিসেবে বিবেচিত থার্মোবারিক অস্ত্র বা ‘ভ্যাকুয়াম বোমা’ ব্যবহার করেছে—এমন দাবি করা হয়েছে আল জাজিরায় সম্প্রচারিত “দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরি” শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অস্ত্র ব্যবহারের ফলে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনি মুহূর্তের মধ্যে বাষ্পীভূত হয়ে নিহত হয়েছেন। 

আল জাজিরার তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে গাজার সিভিল ডিফেন্স ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনিকে নথিভুক্ত করেছে, যারা ‘বাষ্পীভূত’ বা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছেন। তাদের দেহাবশেষ হিসেবে রক্ত বা মাংসের ক্ষুদ্রাংশ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এসব অস্ত্র বিস্ফোরণের সময় অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি করে, যা মানবদেহকে দ্রুত ভস্মে পরিণত করতে সক্ষম।

ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, প্রতিটি হামলার পর ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হয়। কোনো বাড়িতে কতজন মানুষ অবস্থান করছিলেন, তা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জেনে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় মরদেহ কম পাওয়া গেলে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কিছু না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, মানবদেহের বড় অংশই পানি। চরম তাপ ও চাপের প্রভাবে দেহের তরল অংশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে টিস্যু ধ্বংস বা বাষ্পীভূত হতে পারে।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কয়েক ধরনের বোমা ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে ইসরায়েলের ব্যবহৃত এমকে-৮৪ ও জিবিইউ-৩৯ বোমা জড়িত থাকতে পারে। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এসব বিস্ফোরণে ভবনের কাঠামো আংশিক অক্ষত থাকলেও ভেতরের মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন হামলার স্থানে অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দায় শুধু ব্যবহারকারী দেশের নয়, সরবরাহকারী দেশগুলোরও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু আলাদা করতে অক্ষম অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশনার পরও সহিংসতা কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকের মতে, গাজার পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে কেন ‘আস্থা’ পুনর্গঠন করতে বলছে সৌদি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে কেন ‘আস্থা’ পুনর্গঠন করতে বলছে সৌদি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: শেষ সময়ে যা করলেন শেহবাজ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: শেষ সময়ে যা করলেন শেহবাজ
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে এগোবে না সমঝোতা
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে এগোবে না সমঝোতা