ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান
জীবিকার পথ বন্ধ হলে বাঁচব কী করে?

ঢাকার ব্যস্ততম সড়কের কোল ঘেঁষে, মানুষের অবিরাম যাতায়াতের ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে মো. ফয়সাল পাটোয়ারীর ছোট্ট এক চায়ের দোকান। শহরের কোলাহলের ভেতরেই গড়ে ওঠা এই ক্ষুদ্র দোকানটি কেবল ব্যবসার স্থান নয়-এটাই তার স্বপ্ন, সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার অবলম্বন। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তার পুরো পরিবার, জোগান হয় নিত্যদিনের প্রয়োজন। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার ভেতরেও তাই এই ছোট্ট দোকানটিকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
২০২০ সালে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা থেকে জীবিকার সন্ধানে রাজধানীতে আসেন ফয়সাল। অভাবের সংসার টানতে গত ছয় বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ফুটপাতে চা বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিনের আয় সামান্য হলেও সেটুকুই তার পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

কিন্তু সম্প্রতি সেই নিশ্চয়তার জায়গাটিই নড়ে গেছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে ফয়সালের মতো শত শত ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী পড়ে যান অনিশ্চয়তায়। জীবিকা হারানোর আশঙ্কা এখন তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।
ফয়সালের কণ্ঠে শোনা যায় উদ্বেগ আর অসহায়তা। তিনি বলেন, সরকার যদি আমাদের এভাবে উঠিয়ে দেয়, তাহলে আমরা খামু কী। পরিবার চালানোর দায় তো আমাদেরই।
উচ্ছেদের পরও তিনি আবার দোকান বসিয়েছেন। কারণ বিকল্প কোনো পথ তার সামনে নেই। তবে প্রতিটি দিন কাটে এক ধরনের অজানা ভয়ে। কখন আবার অভিযান হবে, কখন দোকান সরিয়ে দেওয়া হবে, সেই আশঙ্কা সবসময় পিছু নেয়।
ফয়সাল জানান, দিনে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি হলেও খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে পাঁচ থেকে ছয়শ’ টাকা। এই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভর করে তার পুরো পরিবার।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উপস্থিত থাকায় সারাদিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়। সেদিন কোনো আয় হয়নি তার। এমন একটি দিন মানেই তার জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তা।
একই বাস্তবতায় আছেন মো. শাহীন নামের আরেক চায়ের দোকানদার। তিনি বলেন, পরিবার চলে এটার উপর নির্ভর করে। আমাদেরকে সরকার যদি উচ্ছেদ করে দেয় তাহলে পরিবার কেমনে চলেবে, এটাকি সরকার ভেবে দেখেছে। দেশে লাখ লাখ মানুষ এই ফুটপাতে দোকান করে পরিবার চালায়।

তিনি জানান, ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করা হলে অনেক আমার মতো অনেক মানুষ জীবিকা হারাবে। ফলে পরিবার চালাতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের দিকেও ঝুঁকতে পারে। তাই সিটি করপোরেশনের উচিত ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদেরকে লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা। এতে তারা অন্তত নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবে এবং হঠাৎ করে উচ্ছেদের ভয় থাকবে না।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের একটি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসক মো. আবদুস সালাম গতকাল গণমাধ্যমকে জানান, কারা ফুটপাতে ব্যবসা করবেন তা নির্ধারণে পুলিশ ইতোমধ্যে জরিপ চালাচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা উচ্ছেদে যেতে চাই না। বরং তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







