• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

যার নামাজ যত সুন্দর সে তত ভালো মুসলিম

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের মৌলিক পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। নামাজের মাধ্যমে বান্দা সরাসরি তার প্রতিপালকের সঙ্গে কথা বলে।  নামাজের সময় রসুল (সা.) বেলাল (রা.)-কে ডেকে বলতেন, হে বেলাল, নামাজের ব্যবস্থা কর। আমরা এর মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতে পারব (আবু দাউদ)।

ইসলাম নামক ইমারতের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ নামাজ। একটি ভবন কিংবা সেতু যেমন খুঁটি ছাড়া দাঁড়াতে পারে না, তেমনি নামাজ ছাড়া সঠিক মুসলমান হওয়াও সম্ভব নয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, মুসলমান ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ ( মুসলিম)। তবে শুধু নামাজ পড়লেই হবে না, একাগ্রতা, খুশু-খুযু ও ধীরস্থিরতার সঙ্গে পড়তে হবে। যার নামাজ যত সুন্দর তার জীবন তত সুন্দর এবং সে তত উঁচুমানের মুত্তাকি। 

মুমিন জীবনের সফলতা নির্ধারিত হয় তার নামাজের সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সফল মুমিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে প্রথমেই বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে মুমিনগণ সফলকাম, যারা তাদের নামাজে বিনয়াবনত (সুরা মুমিনুন)। অর্থাৎ যারা নামাজ আদায় করে অত্যন্ত মনোযোগ ও নিবিষ্টচিত্তে।

নামাজে সৌন্দর্যবর্ধনের মূল চাবিকাঠি ধীরস্থিরতা ও একাগ্রতা। আমাদের জীবনের সর্বত্র তাড়াহুড়োর প্রবণতা দেখা যায়। ইন্টারনেটের গতির মতো জীবনের সব পরতে দ্রুততার প্রবণতা কাজ করে। ইবাদতেও এর ব্যতিক্রম নয়। অথচ এমনটা উচিত নয়। ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।

আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করছিল। আর নবী (সা.) তখন মসজিদের এক কোণে অবস্থান করছিলেন। লোকটি এসে নবীজি (সা.)-কে সালাম করলেন। তিনি বললেন, ফিরে যাও এবং নামাজ আদায় কর। তখন সে ফিরে গিয়ে নামাজ পড়লেন। 

পুনরায় এসে সালাম করলেন। তিনি আবার বললেন,  ফিরে যাও, নামাজ আদায় কর। তৃতীয়বারে লোকটি বলল, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে, ভালোভাবে অজু করে নেবে। এরপর কিবলামুখী হবে। তারপর তাকবির বলবে। এরপর কোরআন থেকে যা তোমার জন্য সহজ তা তেলাওয়াত করবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে। 

এরপর মাথা উঠিয়ে সঠিকভাবে দাঁড়াবে। এরপর সেজদা করবে ধীরস্থিরভাবে। এরপর মাথা তুলে সোজা হবে এবং ধীরস্থিরভাবে বসে যাবে। এরপর আবার ধীরস্থিরভাবে সেজদা করবে। তারপর সেজদা থেকে মাথা উঠিয়ে স্থির হয়ে বসবে। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এভাবে পুরো নামাজ আদায় করবে (বুখারি)।

তাড়াহুড়ো করে নামাজ আদায় উচিত নয়। প্রত্যেকটা রোকন যথেষ্ট সময় নিয়ে ধীরস্থিরতার সঙ্গে আদায় করতে হবে। অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিকৃষ্টতম চোর হলো সেই ব্যক্তি, যে নামাজ চুরি করে।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল! নামাজ কীভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের রুকু ও সেজদা পূর্ণ করে না (মুসনাদে আহমাদ)।’

সাধারণত আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই, আমাদের শরীর নামাজে থাকলেও মনটা পড়ে থাকে দুনিয়ার নানা হিসাবনিকাশে। অথচ নামাজ হলো দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর সঙ্গে লীন হওয়ার মুহূর্ত। রসুল (সা.)-এর নামাজ ছিল চোখের শীতলতা। নামাজে এমনভাবে দাঁড়াতে হবে যেন আমরা সরাসরি আল্লাহকে দেখছি আর আল্লাহ আমাদের দেখছেন। ইহসান তথা আল্লাহর উপস্থিতির অনুভূতি হলো নামাজের প্রাণ। সাহাবায়ে কেরাম এতটা মনোযোগের সঙ্গে নামাজে দাঁড়াতেন যে শরীরে তিরের আঘাত লেগেছে। ক্ষত হয়ে গেছে। তবু তাঁরা টের পেতেন না।

উপরিউক্ত আলোকপাতে আমরা নামাজ সুন্দর করার সুনির্দিষ্ট কিছু উপায় জেনেছি। প্রথমত নামাজের আগে ভালোমতো অজু করে নেওয়া। দ্বিতীয়ত নামাজের প্রতিটি তাসবিহ ও কেরাতের অর্থ বোঝার চেষ্টা করা। যখন বুঝতে পারব আমরা কী পড়ছি, তখন একাগ্রতা বজায় রাখা সহজ হবে। তৃতীয়ত নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করা। রসুল (সা.) বলেছেন, তুমি যখন নামাজে দাঁড়াবে, এমনভাবে নামাজ পড়ো যেন এটিই তোমার জীবনের শেষ নামাজ। এই একটি অনুভূতি নামাজের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হতে পারে।

কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই নামাজকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে আদায় করা উচিত। সুন্দর নামাজ কেবল পরকালের মুক্তির উপায়ই হবে না, এটি দুনিয়াতেও মানুষকে সব ধরনের অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।

আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (সুরা আনকাবুত)। মহান আল্লাহ আমাদের যথাযথভাবে, ধীরস্থিরতা ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করার তাওফিক দিন।
♦ জুমার মিম্বর থেকে লেখক, শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
২১ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
২১ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪,৪৫৭ হজযাত্রী
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪,৪৫৭ হজযাত্রী
সৌদি পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট
সৌদি পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট