• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অভিবাসী প্রবেশ করানো একটি মানবপাচার চক্রের কার্যক্রম ভেঙে দিয়েছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি পরিচালিত এক অভিযানে চক্রটির সঙ্গে জড়িত ১০ জন ইন্দোনেশীয় অভিবাসী এবং দু’জন পরিবহনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, শনিবার পরিচালিত অভিযানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইউনিট অংশ নেয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ২৭ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের রাজধানী কুয়ালালামপুরের গোমবাক ইন্টিগ্রেটেড টার্মিনাল এবং দক্ষিণ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে আটক করা হয়। একই সময় পাচারের কাজে ব্যবহৃত সন্দেহে একটি মাজদা সিএক্স-৫ গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে কেলান্তান থেকে ক্লাং ভ্যালির দিকে আসা একটি সন্দেহভাজন দলের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়। পরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।

তিনি জানান, গোমবাক ইন্টিগ্রেটেড টার্মিনালে দুই ইন্দোনেশীয় পুরুষ, দুই নারী এবং একজন পরিবহনকারীকে আটক করা হয়। একই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও তিন পুরুষ, তিন নারী ও আরেক পরিবহনকারীকে দক্ষিণ বাস টার্মিনাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মানবপাচারকারীরা আগের তুলনায় তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে তারা মূলত সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর উপকূল ব্যবহার করে অভিবাসীদের প্রবেশ করাত। তবে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় তারা নতুন রুট ও পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। এখন আকাশ ও স্থলপথ মিলিয়ে জটিল ট্রানজিট রুট ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাওয়া সহজ হয়।

তদন্তে জানা যায়, পাচারকারীরা প্রথমে ইন্দোনেশিয়া থেকে অভিবাসীদের সিঙ্গাপুরে পাঠাত। পরে সেখান থেকে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হাট ইয়াইতে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে নির্দিষ্ট নিরাপদ ঘরে কিছু সময় তাদের রাখা হতো। এরপর অবৈধ সীমান্তপথে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে প্রবেশ করানো হতো।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অনেক অভিবাসীর ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্লাইট এড়িয়ে যাওয়া হতো, কারণ তাদের কেউ কেউ মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষিদ্ধ তালিকায় ছিলেন। এ কারণে মধ্যবর্তী দেশ ব্যবহার করে তাদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হতো।

জাকারিয়া শাবান বলেন, পুরো পাচার চক্রটি ছিল একটি সুসংগঠিত বহুস্তরীয় নেটওয়ার্ক। এর মূল নিয়ন্ত্রণে ছিলেন একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক। থাইল্যান্ডের হাট ইয়াই শহরে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল। কেউ অভিবাসীদের আগমন সমন্বয় করতেন, কেউ আবাসনের ব্যবস্থা করতেন, আবার কেউ জাল অভিবাসন স্ট্যাম্প তৈরি করে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার কাজ করতেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি অভিবাসীর কাছ থেকে এই চক্র ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত পর্যন্ত আদায় করত। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। এই অর্থের বিনিময়ে অভিবাসীদের বিভিন্ন ধাপে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির ফলে তাদের কার্যক্রম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

মানবপাচার রোধে সীমান্ত ও ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিবাসনপ্রবণতা এবং উন্নত জীবনের আশায় মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা মানবপাচারকারীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে। এ ধরনের চক্র দমনে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে বিমান হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ১৪
যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে বিমান হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ১৪
পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার পথে আব্বাস আরাঘচি
পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার পথে আব্বাস আরাঘচি
হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না: ইরান
হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না: ইরান